ওঙ্কার ডেস্ক : মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে দলীয় কর্মীদের ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনলো বিজেপি। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, বাংলার রাজনৈতিক আবহ ততই উত্তপ্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির শীর্ষ নেতারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে তাঁদের প্রচারে বাধা দেওয়া এবং প্রচার করতে না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। সোমবার, বিজেপি নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূল সুপ্রিমোকে ভোট প্রচার থেকে বিরত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে অবহিত করতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। তাদের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস অবাধে নির্বাচনী কারচুপি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন চালাচ্ছ রাজ্যে। এই বিষয়ে একটি অভিযোগপত্রও জমা দেয় বিজেপি। এই প্রতিনিধিদলে অন্যান্য নেতাদের মধ্যে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, বিজেপির মিডিয়া ইন-চার্জ অনিল বালুনি এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বৈঠকের পর কথা বলতে গিয়ে রিজিজু অভিযোগ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে “নির্বাচন হাইজ্যাক” করার এবং জনগণকে তাদের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে। রিজিজু আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হাইজ্যাক করেছে, গণতন্ত্রকে পুরোপুরি গ্রাস করেছে এবং মানুষকে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।”
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে বারংবার আদর্শ আচরণবিধি এবং নির্বাচনী ও ফৌজদারি আইন লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী সমাবেশে মমতার দেওয়া ধারাবাহিক জনবিবৃতি উস্কানি, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং হিংসার প্রচ্ছন্ন প্ররোচনা রয়েছে। এই বিষয়ে বিজেপি নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার উল্লেখ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ২৫ মার্চ ময়নাগুড়ির একটি সমাবেশে মমতার ভাষণ। এছাড়াও, বিজেপি বাসন্তীতে প্রচার চলাকালীন তাদের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাটিও তুলে ধরা হয়েছে।