স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়ার, লক্ষ্য ছিল বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম শৃঙ্গ মানাসলুর চূড়ায় তেরঙা ওড়ানো। কিন্তু পাহাড় যে কখনও কখনও বড় নিষ্ঠুর! তুষারের সাদা চাদরে ঢাকা পড়ল সেই অদম্য স্বপ্ন। নেপালের মানাসলুতে তুষারধসে চাপা পড়ে মৃত্যু হল বাংলার কৃতী পর্বতারোহী ধ্রুবজ্যোতি গুহর। তাঁর সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন শেরপা গাইড ফুরসেম্বা শেরপাও।
কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলার বাসিন্দা ধ্রুবজ্যোতি পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। নামী বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত ছিলেন, বর্তমানে থাকতেন জার্মানিতে। চাকরির ফাঁকেই পর্বতারোহণ ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। এর আগেও একাধিক শৃঙ্গ জয় করেছেন তিনি। এবার পাড়ি দিয়েছিলেন ৮,১৬৩ মিটার উচ্চতার মানাসলু অভিযানে। কিন্তু শুরু থেকেই প্রতিকূল ছিল আবহাওয়া। তুষারঝড় আর একের পর এক তুষারধসে বারবার বাধা পাচ্ছিল অভিযান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, চূড়ায় ওঠার রাস্তা তৈরির সময় গত কয়েকদিন ধরেই রোপ-ফিক্সিং দলকে ধসের মুখে পড়তে হচ্ছিল। ক্যাম্প-৩ এর উপরের অংশে ধসে ফিক্সড রোপ এবং অভিযানের সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে অতিরিক্ত শেরপা দল গিয়ে ফের রুট তৈরির কাজ শুরু করে। অবশেষে ১৮ সেপ্টেম্বর সামিট রুট খুলে দেয় রোপ-ফিক্সিং দল।
এর পরেই শৃঙ্গ জয়ের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেন ধ্রুবজ্যোতি। জানা গিয়েছে, তিনি ও তাঁর গাইড ফুরসেম্বা ক্যাম্প-৩ এর একটি তাঁবুতে ছিলেন। শনিবার রাতে আচমকা ওই এলাকায় ভয়াবহ তুষারধস নামে। প্রবল তুষারের চাপে তাঁবুটি পুরোপুরি চাপা পড়ে যায়। তার পর থেকেই দু’জনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খবর পেয়েই উদ্ধারকারী দল ক্যাম্প-৩ এর দিকে রওনা দেয়। প্রায় সাত ফুট বরফের নিচে চাপা পড়া তাঁবু থেকে শেষ পর্যন্ত দু’জনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের দেহ বেস ক্যাম্পে নামিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অভিযাত্রীদের সূত্রে খবর, আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় অনেক পর্বতারোহীই তখন বিভিন্ন শিবির থেকে নিচে নেমে আসছিলেন। সেই পরিস্থিতিতেই দ্রুত শৃঙ্গ জয়ের প্রস্তুতি নিয়ে ক্যাম্প-৩ এ পৌঁছেছিলেন ধ্রুবজ্যোতি। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। চলতি মরসুমে মানাসলুর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল পাহাড়ের ভয়ঙ্কর রূপ।