সবার সামনে কথা বলার সময় বারবার “একটু জোরে বলুন” বলতে হচ্ছে? টিভির ভলিউম অন্যদের তুলনায় বেশি রাখতে হচ্ছে? কিংবা ফোনে কথা বলার সময় কথাগুলো স্পষ্ট বুঝতে পারছেন না? কানে কম শোনার সমস্যা শুধু অস্বস্তিকরই নয়, অনেক সময় এটি শরীরের অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রেই বিষয়টি গুরুতর—এমনটা নয়।
কেন কানে কম শোনা যায়?
কানে কম শোনার অন্যতম সাধারণ কারণ হলো কানের ময়লা বা earwax জমে যাওয়া। এছাড়া কানে জল বা সংক্রমণ, সর্দি-জ্বরের পর মধ্যকর্ণে তরল জমা, কানের পর্দার সমস্যা কিংবা দীর্ঘদিন উচ্চ শব্দের মধ্যে থাকা থেকেও শ্রবণশক্তি কমতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কানের ভেতরের সূক্ষ্ম শ্রবণ কোষের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণেও ধীরে ধীরে শুনতে অসুবিধা হতে পারে। আবার কিছু ওষুধ, মাথায় আঘাত বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার সঙ্গেও শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে।
কখন সতর্ক হবেন?
যদি ধীরে ধীরে শুনতে কমে, এক বা দুই কানে পার্থক্য দেখা যায়, কানে শব্দ বা ভোঁ ভোঁ আওয়াজ হয়, কিংবা বারবার কানে সংক্রমণ হয়—তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
বিশেষত হঠাৎ করে এক কানে বা দুই কানে শ্রবণশক্তি কমে গেলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি, কারণ কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সমাধানের উপায় কী?
প্রথমেই কারণটি জানা দরকার। চিকিৎসক কানের ভেতর পরীক্ষা করে প্রয়োজনে hearing test বা audiometry করতে বলতে পারেন। কানে ময়লা জমে থাকলে নিরাপদ পদ্ধতিতে তা পরিষ্কার করা যায়। সংক্রমণ বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে তার উপযুক্ত চিকিৎসা করা হয়। স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাসের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী hearing aid বা অন্যান্য শ্রবণ-সহায়ক ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে।
নিজে থেকে কানে কাঠি, পিন বা অন্য কোনো বস্তু ঢুকিয়ে ময়লা পরিষ্কার করা ঠিক নয়। এতে কানের পর্দা বা ভেতরের অংশে আঘাত লাগতে পারে।
তাই কানে কম শোনা মানেই বড় কোনো রোগ—এমন নয়। কিন্তু সমস্যাটিকে দীর্ঘদিন ফেলে রাখাও ঠিক নয়। কারণ বুঝে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে অনেক ক্ষেত্রেই শ্রবণজনিত অসুবিধা নিয়ন্ত্রণ বা মোকাবিলা করা সম্ভব।