বর্ষা বিদায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাগানপ্রেমীদের সামনে খুলে যায় নতুন সম্ভাবনা। শরতের শুরু থেকে শীতের বাগানের পরিকল্পনা করলে ফুলের গাছকে বেড়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া যায়। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের প্রথম ভাগ শীতকালীন ফুলের চারা বসানোর উপযুক্ত সময়। তবে চারা লাগানোর আগে মাটি, রোদ, জলনিকাশ এবং গাছের স্বভাব—এই চারটি বিষয় বিবেচনা করা জরুরি।
শীতের বাগানে রঙের বৈচিত্র্য আনতে গাঁদা, পিটুনিয়া, প্যানসি, ডায়ানথাস, ভার্বেনা, অ্যান্টিরাইনাম, ক্যালেন্ডুলা, অ্যাস্টার ও ফ্লক্সের মতো ফুল বেছে নেওয়া যায়। ছোট বারান্দা বা ছাদবাগানের জন্য পিটুনিয়া, প্যানসি ও ডায়ানথাস টবে ভালোভাবে মানিয়ে যায়। তুলনামূলক বড় জায়গায় গাঁদা, ক্যালেন্ডুলা বা অ্যান্টিরাইনাম লাগালে বাগানে উচ্চতা ও রঙের স্তর তৈরি হয়। ফুলের পাশাপাশি পালংশাক, ধনেপাতা, মেথি, লেটুস, মুলা বা বিভিন্ন শীতকালীন সবজির চারা ও বীজ দিয়েও বাগানকে ব্যবহারিক করে তোলা যায়।
চারা বসানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল মাটির প্রস্তুতি। বর্ষার অতিরিক্ত আর্দ্রতা যাতে টবে জমে না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে। দোআঁশ মাটির সঙ্গে পচা জৈবসার ও কোকোপিট মিশিয়ে ঝুরঝুরে মাটি তৈরি করা যেতে পারে। টবের নিচের ছিদ্র পরিষ্কার থাকা জরুরি, কারণ জল জমে গেলে শিকড় পচে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
চারা লাগানোর পর প্রথম কয়েক দিন নিয়মিত নজরদারি দরকার। বর্ষার শেষে মাটিতে আর্দ্রতা থাকলে প্রতিদিন জল দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। মাটির উপরিভাগ শুকিয়ে গেলে তবেই জল দেওয়া ভালো। পাশাপাশি পর্যাপ্ত রোদ নিশ্চিত করতে হবে—বেশিরভাগ শীতকালীন ফুলের জন্য প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা সরাসরি সূর্যালোক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গাছ একটু বেড়ে উঠলে শুকনো পাতা ও ফুল সরিয়ে দিতে হবে এবং প্রয়োজনে হালকা ছাঁটাই করতে হবে। কুঁড়ি আসার সময় জৈবসার বা উপযুক্ত পুষ্টি নিয়ম মেনে প্রয়োগ করলে ফুলের বৃদ্ধি ভালো হয়। একই সঙ্গে পাতার নিচে পোকা, ছত্রাক বা দাগ দেখা যাচ্ছে কি না, নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার।
অর্থাৎ, শীতের বাগানের সৌন্দর্য আসলে শীত আসার আগেই তৈরি হয়। বর্ষার শেষের এই সময়ে সঠিক চারা নির্বাচন, মাটির প্রস্তুতি এবং নিয়মিত পরিচর্যা করতে পারলেই কয়েক সপ্তাহ পর একটি রঙিন, স্বাস্থ্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী শীতের বাগান গড়ে তোলা সম্ভব।