ওঙ্কার ডেস্ক : হাই-প্রোফাইল এটিএম ক্যাশ-ভ্যান ডাকাতির রহস্য ভেদ করলো বেঙ্গালুরু পুলিশ। ঘটনার ৬০ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে তিনন মূল অভিযুক্তকে। উদ্ধার ৫.৭৬ কোটি টাকা। মঙ্গলবার সিএমএস পরিচালিত একটি ক্যাশ ভ্যান থেকে নগদ ৭.১১ কোটি টাকা ডাকাতি হয়। আনুমানিক ১২টা ৪৮ নাগাদ অশোকা পিলার-জয়নগর ডেইরি সার্কেলের কাছে আরবিআই কর্মকর্তা সেজে ডাকাতরা সিএমএস ক্যাশ ভ্যানটি আটক করে। দলটি বন্দুকের মুখে কর্মীদের ভয় দেখিয়ে টাকার বাক্সগুলি হাতিয়ে নেয়। মোটামুটি আধঘন্টার মধ্যে কাজটি সেরে নেয় ডাকতরা। শোয়া ১টা নাগাদ গাড়িটি ছাড়া পায়। এই ঘটনার পর বেঙ্গালুরুর সিদ্দাপুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এই ঘটনায় পুলিশের চোখে পড়ে সিএমএস কোম্পানির গাড়ির দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তির উপর। যিনি ভ্যানের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য ফাঁস করতে পারেন বলে পুলিশের সন্দেহ হয়। সন্দেহের তালিকায় আসে আরও দুজন। তাঁদের মধ্যে সিএমএসের প্রাক্তন কর্মচারী, যিনি অপারেশনাল পদ্ধতি এবং অভ্যন্তরীণ খবরাখবর জানাতে পারেন বলে পুলিশের মনে হয়। অন্যজন হলেন গোবিন্দপুরা থানার পুলিশ কনস্টেবল। তিনি গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে থাকতে পারেন বলে পুলিশের সন্দেহের তালিকায় আসেন। এদের গ্রেফতার করে পুলিশ একের পর এক তথ্য পায়। পুলিশ জানতে পারে, এই দলটি তিন মাস ধরে ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল। তারা ক্যাশ ভ্যান রুটের ক্রমাগত তল্লাশি চালিয়েছিল। কি ভাবে অ্যাকশান করলে সিসিটিভি এড়ানো যাবে তা নিয়ে খোঁজখবর নেয়। ডাকাতি করতে গিয়ে তারা একাধিক যানবাহন ব্যবহার করে। শুধু তাই নয়, বারবার রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট পরিবর্তন করেছিল। পুলিশ যাতে ট্র্যাকিং করতে না পারে তার জন্য মোবাইল ফোন এড়িয়ে চলেছিল। এমন কি, অভিযুক্তরা তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার জন্য বিভিন্ন ভাষায় যোগাযোগ করেছিল।
পুলিশের অনুমান, এই অভিযানে ৬ থেকে ৮ জন ব্যক্তি অংশ নিয়ে থাকতে পারে। যার মধ্যে লজিস্টিক হ্যান্ডলার, স্পটার এবং অর্থ স্থানান্তরকারীও ছিল। বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনার সীমান্ত কুমার সিং জানিয়েছেন, “অভিযুক্তরা সকলেই বেঙ্গালুরু থেকে এসেছেন। আমরা প্রতিটি অভিযুক্তের ভূমিকার সঠিক বিবরণ বলতে পারবো না। তবে এটি একটি গুরুতর মামলা। আমরা সিএমএস কোম্পানির প্রধানদের সঙ্গে ফোন করে এর গাফিলতিগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি যাতে এটি আবার না ঘটে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা কিছু ট্রাঙ্ক উদ্ধার করেছি যেখানে নগদ অর্থ মজুদ ছিল। প্রাক্তন কর্মচারী প্রায় এক বছর আগে কোম্পানি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন কিন্তু এখনও কোম্পানির লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন অভিযুক্ত এবং জড়িত অন্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।” এই মামলায় কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং গোয়া জুড়ে ৩০ জনেরও বেশি লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে নেমে ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রাথমিক তথ্যগুলি পেয়ে যায় পুলিশ। তার মাধ্যমে অভিযুক্তদের গতিবিধি এবং ব্যবহৃত যানবাহন সনাক্ত করতে সহজ হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সিএমএস ক্যাশ ভ্যানটি একাধিক আরবিআই নিরাপত্তা নিয়ম লঙ্ঘন করেছে, যার ফলে ঝুঁকি বাড়িয়েছে। ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত একটি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বেঙ্গালুরু পুলিশের যে দলটি এই মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে, তাদের পুলিশ কমিশনার ৫ লক্ষ টাকা নগদ পুরস্কার দিয়েছেন।
