ওঙ্কার ডেস্ক : ভারতীয় কারাগারের ইতিহাসে অনন্য নজির গড়ল বেঙ্গালুরুর কেন্দ্রীয় কারাগার। এমনিতেই এই সংশোধনাগার নিরাপত্তার ত্রুটিমুক্ত বলে দাবি করা হয়। তা যে কয়েদিদের আমোদ প্রমোদেও ত্রুটি মুক্ত সেই ব্যবস্থাপনার কথা এবার সামনে এল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে ওই কারাগারে বন্দীদের হাতে মদের গ্লাস, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বেহেট নৃত্য, সঙ্গে খাবারের অঢেল ব্যবস্থাও রয়েছে। এই ভিডিও প্রাকাশ্যে এল এমন সময়ে যার মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে জেলে ভিভিআইপিদের চিকিৎসার অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছ থেকে তিরস্কৃত হল জেল কর্তৃপক্ষ।
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, কাটা ফল এবং ভাজা বাদাম দিয়ে গ্লাসের পর গ্লাস মদ গলায় ঢালছে কয়েদিরা। এই ধরণের আরও একটি ভিডিও দেখা যাচ্ছে যেখানে চারটি ছোট মদের বোতল সুন্দরভাবে সাজানো। কিছু বন্দী অন্যান্য বন্দীদের বাসনপত্র বাজিয়ে নৃত্য করছে। ইতিমধ্যে এইধরণের ভিডিও কারাগারের ভিতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। কারণ তাদেরই মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু কুখ্যাত অপরাধী। তাদের মধ্যে একজন আইএসআইএস নিয়োগকারী এবং একজন সিরিয়াল ধর্ষক-হত্যাকারীও রয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত ভিডিওগুলিতে একজন বে-আইনি ভাবে আইএসআইএস নিয়োগের অপরাধে জেলবন্দীও রয়েছে। জুহাইব হামিদ সাকিল মান্না নামে ওই অপরাধীকে ভিডিওতে চা খেতে খেতে ফোনে স্ক্রোল করতে দেখা গেছে। আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ১৮টি ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত উমেশ রেড্ডি তার দুটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন এবং একটি কিপ্যাড মোবাইল ব্যবহার করছেন। তার ব্যারাকে একটি টেলিভিশনও রাখা ছিল। ২০২২ সালে, সুপ্রিম কোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয় কারণ তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ বলে দাবি করে ক্ষমা চেয়েছিলেন। পরে তাকে মেডিক্যালি সুস্থ ঘোষণা করা হয়।
মান্না এবং রেড্ডি ছাড়াও, আরেক বন্দী তরুণ রাজুর ছবিতে দেখা গেছে যে তিনি ফোন ব্যবহার করছেন এবং কারাগারের ভেতরে রান্না করছেন। জেনেভায় পালানোর চেষ্টা করার সময় রাজুকে রান্যা রাও সোনা পাচার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরে তাকে একটি চোরাচালান নেটওয়ার্কের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল যারা দুবাইতে একজন আইপিএস অফিসারের মেয়েকে সোনা সরবরাহ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। কারা বিভাগও গতকালের ভিডিওগুলির তদন্ত শুরু করেছে।
রবিবার সকালে, কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর জেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বলেছেন, “আমি এই বাজে কথা সহ্য করব না। যথেষ্ট হয়েছে। এই ধরণের ঘটনা ঘটা উচিত নয়। বলা হয় যে কর্মী কম। তবে অন্তত ডিউটিরত কর্মীদের সঠিকভাবে কাজ করা উচিত। এটি কোনও অজুহাত নয়।”
