ওঙ্কার ডেস্ক : সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের খোদ রাজধানীতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এক এক চক্রের নানান দুষ্কর্মের র্যাকেট। এই অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করলো আমরিন, আফরিন এবং তাদের সহযোগী চন্দন যাদবকে। এদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা এবং দুর্বল তরুণীদের চাকরি দেওয়ার আড়ালে যৌন র্যাকেট চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
রবিবার রাতে দুই মহিলা ভোপালের সেওয়ানিয়া থানায় পৃথক ভাবে কিন্তু একই রকম অভিযোগ জানায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই তিনজনকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্ত আরও তিনজন- বিলাল, চানু এবং ইয়াসির এখনও পলাতক। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্বাস নগরের একটি সাধারণ বস্তিতে বসবাসকারী ওই দুই বোন সম্প্রতি ভোপালের সাগর রয়েলে একটি বিলাসবহুল ভিলায় বসবাস শুরু করে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই ফ্ল্যাট কেনার মতো বিপুল পরিমান অর্থ তারা এই ধরণের অবৈধ কাজকর্মের মধ্য দিয়ে জোগাড় করেছিল।
শহরের পুলিশ আধিকারিকদের মতে, এই দু’ জন অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মেয়েদের টার্গেট করে। তাদের মাসিক ১০,০০০ টাকা বেতনের ঘরোয়া চাকরি, বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা, খাবার এবং স্বাচ্ছন্দ্যের টোপ দিয়ে এই কাজের জন্য জোগাড় করতো। কিন্তু কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যা শুরু করেছিল তা দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ।
উভয় অভিযোগকারী জানিয়েছে, তাদের ধীরে ধীরে পার্টি, পাব এবং লাউঞ্জে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তাদের ধনী পুরুষদের সঙ্গে মেলামেশা করার জন্য চাপ দেওয়া হতো। এফআইআরে বলা হয়েছে যে ভুক্তভোগীদের মদ্যপান এবং এমডি ড্রাগ সেবনে বাধ্য করা হয়েছিল। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে, তারা দাবি করে যে তাদের মাদকাসক্ত করা হয়েছিল এবং যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল।
ছত্তিশগড়ের মুঙ্গেলি জেলার একজন অভিযোগকারী, যিনি বিউটিশিয়ান হিসেবে কাজ করেন, অভিযোগ করেছেন যে তাকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কাজের অজুহাতে আহমেদাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেছেন, আমরিনের আত্মীয় ইয়াসির তাকে ধর্ষণ করেছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে বিলাল এবং চানু বিভিন্ন সময়ে তার উপর নির্যাতন চালিয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগকারী, ভোপালের বাসিন্দা। তিনি আমরিনের বাড়িতে পরিচারিকা হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশের কাছে তাঁর অভিযোগ, আমরিন তাকে একা রেখে যাওয়ার পর চন্দন যাদব নারায়ণ নগরে তার বোনের বাড়িতে তাকে ধর্ষণ করে। তাঁর আরও অভিযোগ, এ বিষয়ে কথা বললে তাঁকে হত্যা এবং মানহানির হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
মামলার সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলির মধ্যে একটি হল জোরপূর্বক ধর্মান্তরের দাবি। এফআইআর অনুসারে, চন্দন যাদব এমনই একজনকে বলেছিল যে সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। সেও যন মুসলিম হয়ে যায়। একটি ভালো পরিবারে বিয়ে দেওয়ারও টোপ দেয় চন্দন। ওই মহিলা জানিয়েছেন যে তিনি চাপের মুখে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন এবং পরে তাকে বোরখা পরতে এবং নামাজ পড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। পুলিশ জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং ধর্ষণ সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক ধারায় এই দাবিগুলি তদন্ত করছে।
সোমবার গ্রেপ্তারের সময়, পুলিশ আমরিন, আফরিন এবং চন্দনের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে। পুলিশ নিশ্চিত করেছেন যে আমরিনের ফোনে বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ পাওয়া গেছে, যেখানে একাধিক তরুণীর ছবি রয়েছে। তদন্তকারীরা রাজ্য জুড়ে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সন্দেহ করছে। কারণ ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন যে তাদের গুজরাট এবং মুম্বাইতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং বিভিন্ন অজুহাতে অপরিচিতদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ভুক্তভোগীরা পুলিশ এবং মিডিয়াকে জানিয়েছেন যে যখনই তারা চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলত, তখনই তাদের হুমকি দেওয়া হত। তারা আরও দাবি করেছিল যে তাদের আপত্তিকর পরিস্থিতিতে ছবি তোলা হয়েছে। তা নিয়ে ব্ল্যাকমেইলও করা হয়েছে।
ভোপালের অতিরিক্ত ডিসিপি গৌতম সোলাঙ্কি নিশ্চিত করেছেন যে বাগ সেওয়ানিয়া থানায় ধর্ষণের একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। পুলিশ এখন অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন, তাদের ভ্রমণ রেকর্ড এবং ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য তদন্ত করছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছ যে এটি একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক নেটওয়ার্কন নাকি বৃহত্তর আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্কের অংশ ছিল।
