ওঙ্কার ডেস্ক: দু দফায় সম্পন্ন হতে চলা বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ২৩ অক্টোবর। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে বড় চমক দেখা গেল বিহারের রাজনীতিতে। ইন্ডিয়া জোটের তরফে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হল মুকেশ সাহানির নাম। জাতপাতের অঙ্ক ঘিরে আবর্তিত হওয়া বিহারের রাজনীতিতে মুকেশ সাহানির দল বিকাশশীল ইনসান পার্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মুকেশের রাজনীতি মূলত নিশাদ সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে। বিহারের জনসংখ্যায় এই সম্প্রদায়ের অনুপাত ২.১ শতাংশ। তবে বিশেষ এই শ্রেণীর ভোটার এত কম সংখ্যক হলেও বিহারের রাজনীতিতে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর সে কারণে এই সম্প্রদায়ের ভোট পেতে মুকেশকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে ইন্ডিয়া জোট। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিহারে মৎস্যজীবী সম্প্রদায় এমন ভাবে বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, কোনও প্রার্থীর জয় পরাজয়ে তাঁরা ফ্যাক্টর হতে পারেন।
উল্লেখ্য, এই প্রথম বিহারে কোনও নির্বাচনে কাউকে উপমুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসেবে ভোটের আগে ঘোষণা করা হল। যদিও ভিআইপি দলের নেতা মুকেশ নিজেই উপমুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য দাবি জানিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবকেও বলেন মুকেশকে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আগে থেকে ঘোষণা করতে। সেই মত নিজেদের মধ্যে আলোচনা সেরে নিয়ে ইন্ডিয়া জোটের তরফে মুকেশের নাম ঘোষণা করা হয়। তাঁর নাম ঘোষণা করার আগে আরজেডি-সহ জোটের একাধিক দলের বিরুদ্ধে প্রার্থী ঘোষণা করে রেখেছিল ভিআইপি। শেষ পর্যন্ত ১১টি আসনে প্রার্থী রেখে বাকি আসনগুলি থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
রাজনীতির বাইরে মুকেশের আরও একটি পরিচয় রয়েছে। কিশোর বয়সে মুম্বই গিয়ে একটি দোকানে সেলস বয়ের কাজ করেন তিনি। বলিউডের সিনেমার সেট তৈরির ব্যবসা খোলেন। সেই সুবাদে বলিউড অভিনেতা শাহরুখ, আমির, সলমনদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়। শোনা যাচ্ছে, বলিউডের দুই খান মুকেশ সাহানির দলের জয় চেয়ে বিবৃতি দিতে পারেন।
