ওঙ্কার ডেস্ক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ফেলল মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জনতা দল। এনডিএ জোটের অন্যতম শরিক এই দলটি ১০১টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। কিন্তু সেই তালিকায় মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র চারজন, যা পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় অনেকটাই কম। ২০২০ সালের নির্বাচনে জেডিইউ মোট ১০ জন মুসলিম প্রার্থী দিয়েছিল। ফলে এবার প্রার্থী বাছাইয়ে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে রাজ্য রাজনীতিতে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জেডিইউ প্রার্থীদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে সামাজিক ভারসাম্য এবং সংগঠনভিত্তিক শক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তবে মুসলিম প্রার্থী কমানোর সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক হিসেবও রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ঘোষিত তালিকায় চৈনপুর, আমউর, জোকিহাট এবং আরারিয়া এই চারটি কেন্দ্র থেকে মুসলিম প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। চৈনপুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জামা খান, আমউরে সাবা জাফর, জোকিহাটে মঞ্জর আলম এবং আরারিয়া থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন শাগুপ্তা আজিম।
তালিকা অনুযায়ী, অনগ্রসর শ্রেণি থেকে ৩৭ জন, অতি অনগ্রসর শ্রেণি থেকে ২২ জন, সাধারণ শ্রেণি থেকে ২২ জন এবং দলিত সম্প্রদায় থেকে ১৬ জন প্রার্থীকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ১৩ জন মহিলা প্রার্থীও রয়েছেন। নীতীশ কুমারের দলের দাবি, এই তালিকা সমাজের সব স্তরের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করছে। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের হিসেবেই সংখ্যালঘুদের প্রভাব কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা বিজেপির সঙ্গে বোঝাপড়ার ফল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, মুসলিম প্রার্থী কমানোর সিদ্ধান্ত জেডিইউর জন্য দ্বিমুখী প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে, বিজেপির হিন্দুত্ববাদী ভোটব্যাঙ্কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এটি কার্যকর হতে পারে, অন্যদিকে সংখ্যালঘু ভোটারদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দলের নির্বাচনী সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিহারের প্রায় ১৭ শতাংশ মুসলিম ভোটার এই সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাবিত হবেন, তা এখন দেখার বিষয়।
নীতীশ কুমার এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও, দলীয় নেতারা জানিয়েছেন যে উন্নয়ন ও সুশাসনের ইস্যুতেই তাঁরা ভোটের লড়াই লড়বেন। তবে বিরোধী শিবিরের কটাক্ষ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট হারানোর ভয়েই জেডিইউর নেতৃত্ব নীরব রয়েছে। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বিহারের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে।
