ওঙ্কার ডেস্ক: এবছর বিহার নির্বাচনের দিকে নজর ছিল গোটা দেশের। দেশে এসআইআর হওয়ার পর বিহারেই প্রথম নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটিকে খুব তাৎপর্যপুর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল। বিহার বিধানসভার নির্বাচনে মুখোমুখি লড়াইয়ে নেমেছিল এনডিএ জোট এবং মহাগঠবন্ধন। এক্সিট পোল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এবার লালু পুত্র তেজস্বী যাদব ভালো ফল করবে। কিন্তু শুক্রবার ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পরই দেখা যায় মহাগঠবন্ধন জোটের হাতে আছে মাত্র ৩৫ আসন। যার মধ্যে কংগ্রেসে ঝুলিতে মাত্র ৬টি আসন। যা কংগ্রেসের নির্বাচনের ইতিহাসে সব থেকে খারাপ ফল। বিহরে খারাপ ফলের পরই বৈঠকে বসেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, কেসি বেণুগোপাল সহ আরও কংগ্রেস নেতাবৃন্দ।
ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের অন্দরেই শুরু হয়ে গেছে দোষারোপের মহল। বিহার নির্বাচনের প্রাক্কালে কংগ্রেসের সুপ্রিমো রাহুল গান্ধীর দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বিহারে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেছেন অনেকে। মহাগঠবন্ধন জোট বিহারে ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ করেন রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবও। কিন্তু সেখানেও ভালো ফল করতে পারেনি বিরোধী জোট। শনিবারের পর্যালোচনা বৈঠকে মেরুকরণের পাশাপাশি প্রচারের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব ও গাফিলতির অভিযোগও সামনে আসে বলে সুত্রের খবর।
এদিকে বিহারের ২৪৩টি আসনের মধ্যে ২০২টি দখল করে ফের ক্ষমতায় ফিরেছে নীতীশ কুমার নেতৃত্বাধীন এনডিএ। বিপরীতে মহাগঠবন্ধনের ঝুলিতে মাত্র ৩৫টি আসন। কংগ্রেস মাত্র ছ’টিতে জিতেছে যা ২০১০-এর পর তাদের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স। ২০২০ সালে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ছিল ১৯, আর ২০১৫ সালে ছিল ২৭। ভোট ফলাফলের পরে শনিবার রাতে রাহুল এক্স-এ লেখেন, ‘‘বিহারে যারা আমাদের জোটকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানাই। এই নির্বাচন শুরু থেকেই সুষ্ঠু ছিল না, তাই আমরা জিততে পারিনি।’’ তিনি আরও লেখেন, ‘‘এই লড়াই গণতন্ত্র এবং সংবিধান বাঁচানোর লড়াই। কংগ্রেস এই ফলাফল খতিয়ে দেখবে এবং গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই আরও জোরদার করবে।’’
অন্যদিকে বিজেপি কংগ্রেসকে কটাক্ষ করতে পিছপা হয়নি। রাহুল গান্ধির ভোট চুরি থেকে শুরু করে এস আই আর-এর প্রসঙ্গকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। বিজেপি শিবিরের মতে রুল একাধিকবার নির্বাচনে হেরে রেকর্ড করেছে। বিহার বিজেপির মুখপাত্র শেহবাজ পুনাওালার কথায়, “কংগ্রেস একটি পরজিবি পার্টি, যারা অন্যদলের উপর ভর করে এগোতে চায়”। তিনি কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করে আরও বলেন, “কংগ্রেস যে দলের সঙ্গে জোট বান্য সেই দলের হার নিশ্চিত”। পুনাওয়ালার কথায় বিহারে আরজেডির এত খারাপ ফলাফলের নেপথ্যে সবথেকে বড় ভুমিকা কংগ্রেসের। পাশাপাশি বিজেপি সদর দফতরে বিজয় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদীও কটাক্ষ করেন, ‘‘আমার আশঙ্কা, এর পরে কংগ্রেসে বড় ভাঙন দেখা যাবে।’’ এর আগে হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে ভোটে হারের পরও ‘ময়নাতদন্ত’-বৈঠক করেছিলেন রাহুল। কিন্তু সেসবের কোনও দৃশ্যমান প্রভাব কংগ্রেস সংগঠনে পড়েনি এমনই আক্ষেপ শোনা যাচ্ছে দলের অন্দরে।
