ওঙ্কার ডেস্ক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন জুড়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। রেকর্ড মাত্রায় ভোটদানের পর গণনাও যেন একইভাবে টানটান পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই নির্বাচনে মোট ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৬৭.১৩ শতাংশ, যা বিহারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল মহিলা ভোটের ব্যাপক অংশগ্রহণ, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এ বার ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিতে পারে। নারী ভোট বিগত দুই দশকে বহুবার পরিবর্তনের মুখ্য চালক হয়ে উঠেছে এবং নীতীশ কুমারের জনভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
গণনা শুরু হতেই এনডিএ জোট দ্রুত লিড নেওয়া শুরু করে। বিজেপি ৯১ টি আসনে এগিয়ে, জেডিইউ ৭৯ টিতে, লোজপা ও আরএলএম একটি করে আসনে এগিয়ে রয়েছে। ফলে এনডিএ–র মোট লিড দাঁড়ায় ২০১ টি আসনে, যা তাদের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে মহাগঠবন্ধনের লড়াইও পিছিয়ে আছে। আরজেডি ২৭ টি আসনে, কংগ্রেস ৪ টিতে, সিপিআই ৫ টিতে, আইআইপি ১টিতে। সব মিলিয়ে মহাগঠবন্ধন জোট এখন আপাতত ৩৬টি আসনে এগিয়ে আছে। অন্যদিকে বিহার রাজনৈতিক মাঠে নতুন খেলোয়ার জনসুরাজ পার্টি কিছু আসনে এগিয়ে থাকলেও বেলার দিকে বাকিদলের থেকে পিছিয়ে আছে। এখনও পর্যন্ত প্রাশন্ত কিশোরের দল কোনো বুথেই নেতৃত্ব করছেন না।
এই নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় উঠে এসেছে নারী ভোট। নীতীশ কুমার ২০০৫ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মহিলাদের জন্য ধারাবাহিকভাবে নানা প্রকল্প চালু করেছেন পঞ্চায়েতে ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ, সরকারি চাকরিতে ৩৫ শতাংশ সংরক্ষণ, মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা–র আওতায় ১০,০০০ টাকা প্রদান, স্কুলছাত্রীদের বিনামূল্যে সাইকেল ও ইউনিফর্ম দেওয়া এসব উদ্যোগ নারী ভোটারের বড় অংশকে আকৃষ্ট করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে সংখ্যালঘু ভোটও। কারণ নীতীশ কুমার এনডিএ–র শিবিরে থাকায় এবং ওয়াকফ সংশোধনী বিলে তাঁর সমর্থনের কারণে মুসলিম ভোটের একটি বড় অংশ তাঁর বিরুদ্ধে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে কিশনগঞ্জ জেলার ভোটদানের হার পৌঁছেছে ৭৮.১৬ শতাংশে যা বিশেষজ্ঞদের মতে সংখ্যালঘু ভোটের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে, তেজস্বী যাদব দাবি করেছেন যে এই রেকর্ড ভোটদানের হার বিহারের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। তাঁর কথায়, ১৯৯০ সালে যখন লালুপ্রসাদ যাদব প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হন, তখন ভোটদানের হার ছিল ৬২.০৪ শতাংশ। এ বারের ভোটদানের হার ৬৭ শতাংশ ছাড়ানোয় আশাবাদী ছিলেন তিনি। কিন্তু নির্বাচনের ফলফল তেজস্বীর বিপক্ষে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, এনডিএ জোট ইতিমধ্যেই বিজয় উল্লাস শুরু করে দিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় মিষ্টি বিতরন, বাজি পোড়ানো শুরু করে দিয়েছেন সমর্থকরা। দেশজুড়ে বিজেপি নেতাদের কথায় বিহারের মানুষ জঙ্গলরাজ ছেড়ে বিকাশকে বেছে নিয়েছেন। সুত্রের খবর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্ধ্যেবেলায় বিহার নির্বাচন প্রসঙ্গে বক্তৃতা দেবেন।
