ওঙ্কার ডেস্ক : মা সীতার আবির্ভাবভূমি বিহারের সীতামঢ়ি। এমন পুণ্যস্থানের ‘দখল’ কে নেবে তাই নিয়ে রণাঙ্গনে তিন নারী। বিহারের দ্বিতীয় দফার ভোটে এই ভোটরঙ্গ এবার নজর কেড়েছে। বিজেপি এবং আরজেডির টিকিটে লড়ছেন দুই প্রার্থী। কিন্তু তৃতীয়জন নির্বাচনে লড়ছেন নির্দল হিসাবে। যেহেতু তিনি আরজেডি থেকে টিকিট পাননি। সব মিলিয়ে বিহার ভোটে সীতামঢ়ি জেলার পারিহার কেন্দ্রে এবার রীতিমতো লঙ্কাকাণ্ড।
বিদেহরাজ জনকের রাজধানী ছিল মিথিলায়। জনকপুরেই হলকর্ষণের সময় উঠে এসেছিলেন সীতামাতা। তাঁকে কন্যা হিসেবে গ্রহণ করেন জনক। বিদেহ রাজ্য ছিল বর্তমানে পূর্ব বিহার থেকে নেপাল পর্যন্ত। জনকপুর এখন অবশ্য নেপালে। কিন্তু যেখানে সীতার আবির্ভাব সেই স্থান এখন সীতামঢ়ি হিসেবে পুজিত। তাই সীতামঢ়িকেই সীতামাতার জন্মস্থান হিসাবে মনে করেন এখানকার মানুষ। এই মিথিলাঞ্চল এবং সীতামঢ়ি-সহ গোটা বিহারেই সীতামাইকে ঘিরে বিশেষ ভাবাবেগ কাজ করে। সেই সীতামঢ়ি জেলার অন্যতম প্রধান বিধানসভা কেন্দ্র পারিহার। যেখানে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ে নেমেছেন তিন মহিলা।

এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী গায়ত্রী দেবী, গত দু’বারই বিধায়ক হয়েছেন। এবার তৃতীয়বার জয়ের লক্ষ্য। মাস কয়েক আগেই অমিত শাহ ঘোষণা করে গিয়েছেন রামচন্দ্রের জন্মস্থানের মতো সীতার আবির্ভাবস্থলেও নতুন মন্দির হবে। যা গায়ত্রীদেবীর ভোট প্রচারের প্রধান প্রতিশ্রুতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীতামাতার আবেগে ভরসা করে বিপুল ভোটে পুনরায় জেতার আশা রাখছেন গায়ত্রীদেবী।
অন্যদিকে, আরজেডির প্রার্থী স্মিতা পূর্বে। দলের চিরকালীন ভোটব্যাঙ্ক যাদব এবং মুসলিমদের উপর ভরসা রেখেছেন তিনি। শ্বশুরমশাই রামচন্দ্রের জনপ্রিয়তাও স্মিতার ভরসা। কিন্তু এই কেন্দ্রে রয়েছে দলের বিক্ষুব্ধ প্রার্থী ঋতু জয়সওয়াল। তিনি লড়ছেন নির্দল প্রার্থী হিসেবে। আরজেডির রাজ্য মহিলা সংগঠনের প্রেসিডেন্ট হওয়ায় তাঁর প্রভাব রয়েছে । এটাই আরজেডি প্রার্থী স্মিতাকে ভাবাচ্ছে।
