ওঙ্কার ডেস্ক : নেপাল সীমান্ত দিয়ে বিহারে জইশ-ই-মোহাম্মদের জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এমনটাই আশঙ্কা করছে বিহার পুলিশ। তাই রাজ্যব্যাপী উচ্চ সতর্কতা জারি করার পর লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর “ভোটার অধিকার যাত্রা”র নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, বিপক্ষ দলের নেতা রাহুল গান্ধী তার সীতামারী শিবির থেকে সরাসরি জানকী মন্দিরে যান। মন্দির পরিদর্শনের পরই তাঁকে জানানো হয়, নিরাপত্তার কারণে নির্ধারিত রোডশোও শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে হুড খোলা জিপে রাহুল গান্ধীর যাত্রাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাহুল তাঁর সময়সূচিও এগিয়ে নিয়ে যান। পরিকল্পিত সময়ের এক ঘন্টা আগে সকাল ১১ টার মধ্যে মোতিহারিতে পৌঁছান। যাত্রাপথে কোথাও তাঁর গাড়ি থামেনি। যাত্রার ১২তম দিনে সীতামারহির রিগা চকে এক জনসমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, “এটি কেবল ভোটার অধিকার যাত্রা নয়, এটি আপনার অধিকারের জন্য একটি যাত্রা।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই যাত্রার উদ্দেশ্যই হল নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা”।
গোয়েন্দা রিপোর্টের প্রেক্ষিতে বিহার পুলিশ রাহুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন এনেছে। পুলিশের আশঙ্কা, এই মাসের শুরুতে হাসনাইন আলী, আদিল হুসেন এবং মোহাম্মদ উসমান নামে তিন জৈশ-ই-মুহম্মদ সন্ত্রাসবাদী নেপাল হয়ে বিহারে প্রবেশ করেছে। সে কারণে মোতিহারি পুলিশ তিন সন্দেহভাজন জঙ্গির তথ্যের জন্য ৫০,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
ভোটার অধিকার যাত্রার ১২তম দিনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সীতামারহির পুনৌরধামে পবিত্র মাতা জানকী মন্দির পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আরতি করেন। মন্দিরের পুরোহিতরা তাকে চুনরি দিয়ে সম্মানিত করেন। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ছিলেন বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব এবং বিকাশশীল ইনসান পার্টির (ভিআইপি) প্রধান মুকেশ সাহানি, উভয়েই তাঁর সঙ্গে প্রার্থনায় যোগ দিয়েছিলেন। মন্দির পরিদর্শনের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তেজস্বী যাদব বলেন, “আমি ভোট চুরির সঙ্গে জড়িতদের পরাজিত করতে চেয়েছি। মা জানকী আমাদের আশীর্বাদ করবেন। তিনি বিহারে এনডিএ-র পরাজয় নিশ্চিত করবেন।”এলওপি রাহুল গান্ধী, তেজস্বী যাদব এবং মুকেশ সাহানির যৌথ উপস্থিতিকে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে বিরোধী ঐক্যের একটা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
