নিজস্ব প্রতিনিধি, বোলিপুর : বীরভূমের জমিদার বাড়ির পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম নাম বোলপুর শান্তিনিকেতনের সুরুল জমিদার বাড়ির পুজো। সুরুল গ্রামের মধ্যে ও বোলপুর সহ পাশ্ববর্তী এলাকাতেও এই জমিদার বাড়ির পুজো বহুলচর্চ্চিত। প্রায় ৩০০বছরের এই পুজো ঘিরে রয়েছে নানান গল্প কাহিনী।
কথিত আছে, প্রায় ৩৫০ বছর আগে বর্তমানে বর্ধমান জেলার নীলপুর গ্রামে বসবাস ছিল সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী ভরতচন্দ্র সরকারের। কিন্তু তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। তাই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন সবকিছু ছেড়ে দিয়ে ধর্ম কর্মে মন দেবেন, সেই মত তারা বেড়িয়ে পড়েন। তাদের গুরুদেব বাসুদেব ভট্টাচার্যের আশীর্বাদ নিতে এলে তিনি জানান, তাঁরা যদি এখনকার সুরুল গ্রামে বসবাস করে একবছর পর মা দূর্গার পুজো শুরু করলে তাদের সন্তান হবে।
পুজোর পর দেবী সদয় হন। তিন সন্তানের পিতা হন ভরতচন্দ্র সরকার। পরবর্তীতে বংশধর শ্রীনিবাস সরকার এই মন্দির নির্মাণ করান। রাণাঘাট থেকে মিস্ত্রীদের আনানো হয়। তারাই মাসিক ৩টাকা মাইনেতে এখনকার মন্দির, কাছাড়িবাড়ি, বাঁধানো পুকুর ও দালানবাড়ি তৈরি করেন। সেই সময়ে তা তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ১৮ হাজার টাকা।
এখনও সেই ঐতিহ্য বহন করে আসছে সুরুলের জমিদার বাড়ি। পরিবারের সদস্যরা অনেকেই থাকেন বিদেশে, কিন্তু পুজোর চারটে দিন তাঁরা সুরুলে আসেন। যোগ দেন নিজের বাড়ির পুজোতে। বাড়ির ছোট সদস্যরাও খুব আনন্দের সঙ্গেই কাটায় এই চারটে দিন। নিজের বাড়ির পুজো ছেড়ে তাঁরা বোলপুর বা অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ভাবতেই পারে না। জমিদার বাড়ির পুজো ছাপিয়ে একদম সর্বজনীন পুজোর রূপ নেই সুরুল, এই চারটে দিনই বাড়ির লোকদের পাশাপাশি দূরদূরান্তের লোকজনও ভীড় জমান এখানে।
