প্রীতম দাস, বীরভূম : রথযাত্রা মানে শুধুমাত্র জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রার রথ নয়। এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বাংলার এক অনন্য তীর্থস্থান তারাপীঠে আয়োজিত হয় বিশেষ রথযাত্রা। এই বিশেষ রথ যাত্রার মূল কেন্দ্র মহাশক্তির রূপ মা তাঁরা। প্রত্যেক বছরের মত এ বছরেও পুরের রথে প্রভু জগন্নাথ মাসের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন আর এদিকে বীরভূমের তারাপীঠে রথে চড়ে নগর পরিক্রমায় বের হন তাঁরা মা। প্রত্যেক বছরই এই বিশেষ দিনে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম লক্ষ্য করা যায় তারাপীঠে।
প্রতিবছরের মতো এ বছরেও রথযাত্রার সকাল থেকে শুরু করা হয় প্রস্তুতি। মায়ের মন্দির প্রাঙ্গণে চলে বিশেষ পুজো ও আরতি। অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে মায়ের আরতি করা হয়ে থাকে এই দিন। এরপর মা তাঁরা কে রাজ বেশে সাজিয়ে তোলা হয়ে থাকে। ঐতিহাসিক পিতলের রথ আলোকসজ্জা ও ফুলে সাজিয়ে তোলা হয়।
কথিত আছে প্রায় ২০০ বছর আগেই এই রীতি চালু করেন বিখ্যাত সাধক দ্বিতীয় আনন্দনাথ। তাঁর উদ্যোগেই তৈরি হয় একটি ছোট পিতলের রথ, যেটা আজব সংরক্ষিত করে রাখা আছে তারাপীঠ মন্দিরে। প্রতিবছর এই রথেই মা তাঁরা কে বসিয়ে বীরভূম শহর ভ্রমণ করানো হয়ে থাকে।
এর পাশাপাশি এই রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ “প্রসাদের লুঠ “। রথযাত্রার উৎসব চলাকালীন মায়ের মন্দিরের সেবায়েতরা বাতাসা ও প্যারা ভক্তদের উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দিয়ে থাকেন। মানুষজন বিশ্বাস করেন এই প্রসাদ গ্রহণ করলে পুনর্জন্ম থেকে মুক্তি মেলে। আর সেই আশাতেই ভক্তরা প্রত্যেক বছরে এই দিন প্রাণপণে চেষ্টা করেন তারাপীঠে উপস্থিত থাকতে। ভক্তদের বিশ্বাস আর মায়ের উপস্থিতির অনুভবে গড়ে ওঠে এই বিশেষ দিনটি।
