ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। সেই আবহেই এবার রাজ্যে বড়সড় বিনিয়োগের সম্ভাবনার খবর সামনে এসেছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ দুগ্ধ সমবায় সংস্থা আমূল পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার ডেয়ারি প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারে বলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের শিল্পমহল, রাজনৈতিক মহল এবং কর্মসংস্থানের প্রত্যাশী সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
জানা গিয়েছে, আমূলের মূল সংস্থা গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন পূর্ব ভারতে নিজেদের ব্যবসা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গে একটি বড় ডেয়ারি প্রসেসিং ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। সূত্রের খবর, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দুধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, কোল্ড স্টোরেজ, প্যাকেজিং ইউনিট এবং সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি গোটা রাজ্যে দুধ সংগ্রহের জন্য নতুন নেটওয়ার্কও গড়ে তোলা হতে পারে।
বিজেপির অফিসিয়াল সমাজমাধ্যম পেজে এই সম্ভাব্য বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং তার ফলেই দেশের বড় সংস্থাগুলি বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে। বিজেপির নেতাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন পর রাজ্যে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে শিল্পপতিরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন করে আস্থা ফিরে পাচ্ছেন। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে তা শুধু দুগ্ধশিল্পের ক্ষেত্রেই নয়, সামগ্রিকভাবে রাজ্যের অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জেলার বহু ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারি সরাসরি উপকৃত হতে পারেন। নিয়মিত দুধ সংগ্রহ, উন্নত বাজারব্যবস্থা এবং ন্যায্য মূল্য পেলে বহু কৃষক ও পশুপালক নতুন করে উৎসাহিত হবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে দুগ্ধশিল্পের সম্ভাবনা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল, কিন্তু বৃহৎ পরিকাঠামো এবং সংগঠিত বাজারের অভাবে সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। আমূলের মতো বৃহৎ সংস্থা এলে রাজ্যের দুধ উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং বিপণন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে বহু কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্প নিয়ে সংস্থার তরফে বা রাজ্য সরকারের তরফে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। কোথায় এই প্ল্যান্ট তৈরি হবে, কবে থেকে কাজ শুরু হবে কিংবা কত মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হবে সেই বিষয়গুলি এখনও স্পষ্ট নয়। তা সত্ত্বেও সম্ভাব্য এই বিনিয়োগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের শিল্প ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।