ওঙ্কার ডেস্ক: “লাদাখে রাহুল গান্ধীকে বুকে গুলি করা হবে”, টেলিভিশন সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় কেরল বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখে প্রিন্টু মহাদেবের এহেন মন্তব্যে বেশ নড়াচড়ে বসেছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এটি শুধুমাত্র কংগ্রেসের একজন নেতার জীবনের উপর হুমকি নয় বরং দেশের সাংবিধানিক পরিকাঠামো, নাগরিক মৌলিক অধিকারের উপর হুমকি।
ঘটনার সুত্রপাত, কেরলের এক টেলিভিশন চ্যানেলের আলোচনার সময়ে তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে ভয়ঙ্কর মন্তব্য করেছেন যেখানে সরাসরি তাঁকে গুলি করার প্রসঙ্গ টানা হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, এ ধরনের উস্কানিমূলক ও হিংসাত্মক বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী নয়, বরং রাহুল গান্ধীর নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি।
ঘটনার পরই কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির সরকারি মুখপাত্রের মুখে এমন মন্তব্য গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক উদাহরণ তৈরি করছে। তিনি লিখেছেন, এই ধরনের বক্তব্য সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নামে রক্তপাতের হুমকি কখনও গ্রহণযোগ্য নয়।
বেণুগোপালের চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাহুল গান্ধীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআরপিএফ-এর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি যোগাযোগ চিঠি ফাঁস হয়ে যাওয়া নিয়েও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কীভাবে এবং কার স্বার্থে সেই নথি বাইরে এল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছে কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিরোধী নেতার নিরাপত্তা নিয়ে অবহেলা হলে তা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে।
কংগ্রেসের মতে, কেন্দ্রীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক যদি এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে রাজনৈতিক হিংসাকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হবে। যা শুধু রাহুল গান্ধীর নয়, দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক নেতার ও সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিরোধীরা একযোগে বিজেপির সমালোচনা করেছে, অন্যদিকে শাসকদল থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অমিত শাহ এই চিঠির প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেন, সেই দিকেই এখন নজর বিরোধীদের।
