ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ যখন বাড়ছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নতুন নির্দেশ বিজেপির কৌশলে বড়সড় পরিবর্তন এনেছে। দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে মোদি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভোটার তালিকা সংশোধন বা বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রচারে ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত ইস্যুকে সামনে আনা চলবে না। তাঁর মতে, এই প্রচারের মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত তালিকার স্বচ্ছতা, বৈধতা এবং ভোটারদের অধিকার সুরক্ষা।
বৈঠকে তিনি উল্লেখ করেন, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখা একটি প্রশাসনিক ও আইনগত দায়িত্ব, যার সঙ্গে সমাজে বিভাজন সৃষ্টির কোনও সম্পর্ক নেই। কোনও মৃত ব্যক্তি, জাল নথি ব্যবহারকারীর নাম বা অনুপস্থিত ভোটারের তথ্য তালিকায় থাকা উচিত নয়, এই বার্তাই তিনি দিয়েছেন সাংসদদের। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই সংশোধন প্রক্রিয়াকে নাগরিকত্বের প্রশ্নে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ মনে না করেন যে এটি কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অভিযান।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদির এই নির্দেশ বিজেপির প্রচলিত কৌশল থেকে একধরনের কৌশলগত সরে আসা। বিগত কয়েক বছরে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় ধর্ম-ভিত্তিক বিতর্ক বা অভিযোগ-প্রত্যঅভিযোগ সামনে এসেছে বহু বার। এবার সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে বিজেপি কী চাইছে নতুন বার্তা দিতে? তাদের লক্ষ্য কি শুধুমাত্র তালিকাকে নির্ভুল করা, এবং প্রতিটি ভোটারকে তাঁর প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, এমন ভাবেছেন অনেকে।
বৈঠকে মোদি পশ্চিমবঙ্গের সাংসদদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় প্রকল্প, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং কল্যাণমূলক সুবিধার বিষয়ে মানুষের হাতে-হাতে তথ্য পৌঁছে দিতে বলেছেন তিনি। তাঁর মন্তব্য অনুযায়ী, দলীয় প্রচারে যুবক থেকে প্রবীণ, শ্রমিক থেকে গৃহবধূ সকল সম্প্রদায়কে একসঙ্গে নিয়ে চলাই এখন প্রধান দায়িত্ব। উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকারই হোক রাজনীতির মুখ্য ভাষা এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বৈঠকের পরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। তৃণমূল কংগ্রেস এই নির্দেশকে বিজেপির নির্বাচনের আগে হঠাৎ কৌশল পরিবর্তন বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, এত দিন যে দল ধর্মীয় মেরুকরণে জোর দিত, এখন নির্বাচনের আগে নিজেদের ভাবমূর্তি বদলাতে চাইছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মূলত প্রশাসনিক স্বচ্ছতার বার্তা, যার সঙ্গে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার কোনও অর্থ নেই।
