ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নতুন সভাপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের অন্দরে এখন পদাধিকারী বাছাই নিয়ে জোর তৎপরতা। এই প্রেক্ষিতে আলোচনায় উঠে এসেছে রাজ্য মহিলা মোর্চার গত দশ বছরের কার্যকলাপ ও নেতৃত্বের ধারা। বিশেষত আদি বনাম বহিরাগত তর্কে মহিলা শাখার নেতৃত্বের ইতিহাস দলীয় মহলে নতুন করে মূল্যায়ন হচ্ছে।
২০১৫ থেকে ২০২১ এই ছয় বছরে রাজ্য মহিলা মোর্চার নেতৃত্বে ছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, লকেট চট্টোপাধ্যায় ও অগ্নিমিত্রা পাল। তিন জনই রাজনীতিতে আসার আগে ছিলেন বিনোদন বা ফ্যাশন জগতের পরিচিত মুখ, অন্যভাবে বললে আদি বিজেপি কর্মী নন। তাঁদের আমলেই মহিলা মোর্চার আন্দোলন ও প্রচারে চোখে পড়ার মতো উত্থান ঘটে। রূপা সংগঠনের পরিচিতি বাড়ালেও নির্বাচনী সাফল্য পাননি। লকেট ও অগ্নিমিত্রা দুই জনেই ভোটে জিতেছেন। লকেট ২০১৯-এ হুগলি লোকসভা ও অগ্নিমিত্রা বিধানসভায়। যদিও দুই জনেই পরবর্তী নির্বাচনে হেরেছেন, তবুও সাংগঠনিক ক্ষেত্রে তাঁদের গুরুত্ব কমেনি। লকেট উত্তরাখণ্ড বিধানসভা নির্বাচনে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে প্রশংসা পান, আর অগ্নিমিত্রা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আস্থাভাজন হয়ে বিধানসভা ও রাজ্যের নানা কর্মসূচিতে সক্রিয় মুখ হয়ে উঠেছেন।
রূপার আগমন মহিলা মোর্চায় চটক যোগ করে। ২০১৬-তে হাওড়া উত্তর থেকে ভোটে হেরে গেলেও পরে রাষ্ট্রপতি মনোনীত সাংসদ হন। মেয়াদ শেষে কিছুটা অন্তরালে থাকলেও সম্প্রতি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এই তিন জনের পর সভানেত্রী পদে আসেন তনুজা চক্রবর্তী ও ফাল্গুনী পাত্র দুই জনেই আদি বিজেপি কর্মী, রাজনীতির মাধ্যমেই পরিচিতি। তবে তাঁদের মেয়াদে মাঠে-ময়দানে মহিলা মোর্চার কার্যকলাপ তেমনভাবে নজর কেড়েছে বলে অনেকে মনে করেন না। দুই জনেই বিধানসভা ভোটে হেরে গিয়েছেন। আরজি কর কাণ্ডে মেয়েদের নিরাপত্তা ইস্যুতে দীর্ঘ আন্দোলনের সময়ও ফাল্গুনীর নেতৃত্বে সংগঠন কি আলাদা ছাপ ফেলতে পেরেছিল, তা নিয়ে দলে প্রশ্ন রয়েছে।
দলীয় বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বিনোদন জগত থেকে আসা পরিচিত মুখেরা মহিলা মোর্চার নেতৃত্বে এলে সংগঠন যেমন দৃশ্যমানতা ও গতি পায়, তেমনই ওই ব্যক্তিরাও দলীয় রাজনীতিতে দ্রুত প্রতিষ্ঠা পান। তবে এর বিপরীতে বহু তারকা প্রার্থী যেমন পায়েল সরকার, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, তনুশ্রী চক্রবর্তী, পার্নো মিত্র, পাপিয়া অধিকারী ভোটে লড়েও হেরেছেন এবং সাংগঠনিকভাবে তেমনভাবে যুক্ত হননি। অনেকে কিছুদিনের মধ্যেই দল বদলেছেন।
