আবারও অশান্ত কৃষ্ণসাগর। পরপর দু’দিন দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নিন্দায় সরব হয়েছে ভারত।
সোমবার রোমানিয়ার জলসীমার বাইরে তুরস্কের একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। ওই হামলায় দু’জন নাবিকের মৃত্যু হয়, আহত হন আরও কয়েকজন। আহতদের মধ্যে একজন ভারতীয়ও ছিলেন। রোমানিয়ায় ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ওই জাহাজে মোট তিনজন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাঁরা সকলেই সুস্থ আছেন। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত মনোজ মহাপাত্র তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে দূতাবাস।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার ফের হামলা। এবার কৃষ্ণসাগর উপকূলে সোচির কাছে লাইবেরিয়ার একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা হয়। অভিযোগ, হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রাশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, জাহাজে তেল থাকায় মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, দাউদাউ করে জ্বলছে জাহাজ, আকাশ ঢেকে গিয়েছে কালো ধোঁয়ায়। যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হয়নি। ঘটনার পর ওই উপকূল এলাকায় সাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন সোচির মেয়র। দমকলকর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন। স্বস্তির খবর, জাহাজে থাকা ২৩ জন নাবিকই ভারতীয় এবং তাঁদের সকলকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ভারত। তুরস্কের জাহাজে রাশিয়ার হামলার তীব্র নিন্দা করেছে নয়াদিল্লি। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, “কৃষ্ণসাগর থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বেসামরিক জাহাজের উপর হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মনে করি, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান সম্ভব।” যদিও লাইবেরিয়ার জাহাজে ইউক্রেনের হামলা নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি ভারত।
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বেড়েছে। ইউক্রেনের দাবি, রুশ শহরগুলিতে রাতের হামলা ঠেকাতেই তারা রাশিয়ার তেল পরিকাঠামোকে নিশানা করছে। গত কয়েকদিনে দু’দেশের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে, কিভের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলিতে হামলা চালাচ্ছে মস্কো, পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইউক্রেনও।