ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের গদরে সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাল বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট (বিএলএফ)। সংগঠনটির দাবি, জেলার একাধিক নিরাপত্তা ঘাঁটিতে হামলার অংশ হিসেবে তাদের যোদ্ধারা এই গুরুত্বপূর্ণ পাক সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করেছে। বালোচরা এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন আলমাস’।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিএলএফের মুখপাত্র মেজর ঘহরাম বালুচ এই অভিযানের কথা জানান। তাঁর দাবি, সংগঠনটির বিশেষ বাহিনী ‘সাদ্দো অপারেশনাল ব্যাটালিয়ন’-সহ একাধিক ইউনিটের সদস্যরা এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনও হামলা চলছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। বিএলএফের বিবৃতি অনুযায়ী, গদরের জিরো পয়েন্টে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কস অর্গানাইজেশনের (এফডব্লিউও) শিবিরে বড়সড় হামলার মাধ্যমে অভিযান শুরু হয়। ওই সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয় বলে দাবি করে বিএলএফ। সেখানে সংগঠনের পতাকাও তোলা হয়েছে। সংগঠনটির আরও দাবি, সংঘর্ষে পাকিস্তানের মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের এক ক্যাপ্টেন এবং স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের (এসএসজি) কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে এই দাবিগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এফডব্লিউও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত একটি সামরিক ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বড় পরিকাঠামো ও নির্মাণ প্রকল্পে এই সংস্থা কাজ করে। বালুচিস্তানেও তাদের একাধিক প্রকল্প রয়েছে।
গদর জেলার মাজানি পুলিশ স্টেশন দখলেরও দাবি করেছে বিএলএফ। সংগঠনটির বক্তব্য, সেখান থেকে সরকারি অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে তাদের যোদ্ধারা। সংঘর্ষে এক পুলিশ আধিকারিক নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া, গদর জেলার গাবদ এলাকায় পাকিস্তানি সেনার একটি কনভয়ে হামলার দায় স্বীকার করেছে সংগঠনটি। বিএলএফের দাবি, হামলায় একটি সামরিক গাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এতে পাকিস্তানের কয়েকজন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন।