তাপস ঘোষ, মুর্শিদাবাদ: ফের এসআইআরকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর খবর। মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের কাজের চাপে বিএলও-এর মর্মান্তিক মৃত্যু। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত বিএলও-র নাম মায়া মুখোপাধ্যায়, বয়স ৫২। তিনি হরিহরপাড়া থানার শ্রীপুর নামুপাড়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষিকা ছিলেন। একই সঙ্গে শ্রীপুর ২৫১ নম্বর বুথের BLO হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মায়া দেবী।
মৃত বিএলও –এর পরিবারের অভিযোগ, মায়া মুখোপাধ্যায় বুথ লেভেল অফিসার হতে ইচ্ছুক ছিলেন না। কিন্তু তাঁকে জোর করে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি প্রবল মানসিক চাপে ভুগছিলেন। বুথের ভোটার তালিকায় কার নাম থাকবে কার নাম থাকবে না, এই নিয়ে একের পর এক হিয়ারিংয়ে মানসিক চাপ বাড়ছিল তাঁর। পাশাপাশি গ্রামবাসীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি চরম আতঙ্কে ছিলেন। পরিবারের আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকায় কারও নাম বাদ পড়লে গ্রামবাসীরা তাঁর বাড়িতে এসে চড়াও হতে পারেন, এই আশঙ্কায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে ছিলেন। সেই প্রবল মানসিক চাপ থেকেই শুক্রবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়, বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখ এবং হরিহরপাড়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি জসিমউদ্দীন শেখ। এদিন হরিহরপাড়ার বিধায়ক বলেন, ‘এসআইআর নিয়ে মানুষ হতাশায় ভুগছে, তাদের হয়রানির শেষ নেই। মৃত বিএলও মহিলা শুরু থেকেই কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি বহরমপুর, কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।’ এদিন তিনি আরও বলেন, যখনই বিধানসভা নির্বাচন আসছে তখনই কেন্দ্রীয় সরকার মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে এসব করছে। এর আগে ২০২১ সালে এনআরসি নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল, এবারে এসআইআর নিয়ে করছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রশাসনিক চাপ ও বিএলও -দের উপর মানসিক বোঝা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, এসআইআর কান্ডে ইতিমধ্যে মুর্শিদাবাদে তিন জন বিএলওর মৃত্যু হল। পাশাপাশি এখনও পর্যন্ত এসআইআর আতঙ্কে জেলায় এগারো জন ভোটার আত্মঘাতী হয়েছেন।
