তাপস রায় , মুর্শিদাবাদ; দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলার শ্রমিকদের বিড়ম্বনা অব্যাহত । মুম্বাইয়ে কাজে গিয়ে বেহাল দশা মুর্শিদাবাদের তিন পরিযায়ী শ্রমিকের । ঠাঁই হল বাংলাদেশের জিরো পয়েন্টের মাঠে। ওই তিনজনের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের একাধিক প্রমাণ পত্র থাকা সত্তেও তাঁদের উপর অত্যাচার করে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিএসএফের বিরুদ্ধে। অভিযোগ শনিবার ভোরে ওই তিনজনকে একটি বামংলাদেশি দলের সঙ্গে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানা এলাকার চ্যাংড়াবান্দা বর্ডার এলাকা দিয়ে অপারে পুশ ইন করা হয় । কিন্তু বিজিবি তাঁদের বাংলাদেশ প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশের পাটগ্রাম থানা এলাকার একটি মাঠে রয়েছেন তারা । এলাকাটি শ্রীরামপুর বিজিবি অধীনে। ওই তিন ভারতীয় নাগরিকের নাম নাজিমুদ্দিন মণ্ডল, বাড়ি হরিহরপাড়া থানার তরতিপুর। মিনারুল শেখ, বাড়ি বেলডাঙা থানার কাজিশাহ। ও মেহেবুব শেখ, বাড়ি ভগবানগোলা থানার রাধিকান্তপুর। এই ঘোটনার কথা জানতে পেরে কানায় ভেঙে পড়েছেন তাদের পরিজনেরা । ওই তিনজনকে ফিরিয়ে আনতে আত্মীয় স্বজনরা জেলা পুলিশের দ্বারস্ত হয়েছেন। । পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার ।
জানা গেছে কেউ দেড় বছর, কেউ এক বছর মুম্বাইয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করছিলেন অই তিনজন । গত ১২ জুন মুম্বাইয়ের কানকিয়া থানার পুলিশ অই তিনজনকে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁদের আটক করে।।মুর্শিদাবাদের তিন বাসিন্দা নিজেদের পরিচয় পত্র দেখানোর পরও পুলিশ সেগুলি ফেক বলে সন্দেহ করে। মিনারুলের দাদা মানিজুল শেখ বলেন, আমরা কয়েক পুরুষ ধরে ভারতীয়। ভিটে জমি সরকারি সব প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু মুম্বাই পুলিশ তা বলে মানতে চায়নি।
১৩ জুন বাংলাদেশি দলের সঙ্গে ওই তিনজনকেও বিএসএফের উত্তরবঙ্গ ফ্রন্ট এয়ারের শিলিগুড়ি হেড কোয়াটারের হাতে তুলে দেয় মুম্বাই পুলিশ। ১৪ জুন ভোর চারটে নাগাদ চ্যাংড়াবান্দা বর্ডার দিয়ে সকলকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। কিন্তু বিজিবি তাদের বাংলাদেশ অনুপ্রবেশের অনুমতি দেয়নি।
