ওঙ্কার ডেস্ক: কেরলে ব্রেন ইটিং অ্যামিবায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আক্রান্ত প্রায় ৬৯ জন মত। আর এতে চিন্তা বাড়ছে কেরলের স্বাহ্য দফতরের। এই এককোষী জীবের প্রভাব শুধুমাত্র কোঝিকোড় এবং মালাপ্পুরম জেলার কিছু অংশে সিমিত থাকলেও ধীরে ধীরে টা পুরো রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পরছে। আর এতেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে কেরল সরকারের।
এই রোগটির নাম প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস। গরম এবং স্থির জলে সহজেই জন্ম নেয় এই অ্যামিবা। পুকুর, হ্রদ, ধীর গতির নদীর জল বা অচলিত সুইমিং পুল যে কোনও স্থির জলে এই জীবাণুর উপস্থিতি থাকতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই জীবাণু কখনও খাওয়ার মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে না। বরং নাক দিয়ে জল ঢোকার সময় তা শরীরে প্রবেশ করে। এরপর স্নায়ুর মাধ্যমে সরাসরি মস্তিষ্কে পৌঁছে দ্রুত মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট করতে শুরু করে।
সংক্রমণের কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হয় উপসর্গ। তীব্র মাথাব্যথা, জ্বর, বমি, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি এবং অচেতন হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দ্রুত প্রকট হয়। একবার মস্তিষ্ক আক্রান্ত হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকি চরমে পৌঁছে যায়। প্রথমে উপসর্গগুলি সাধারণ জ্বর বা মেনিনজাইটিসের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় রোগ চিহ্নিত করতে দেরি হয়। আর তাতেই প্রাণহানির সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
কেরলের স্বাস্থ্য দপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। শিশুদের পুকুর বা জলাশয়ে সাঁতার কাটতে নিষেধ করা হয়েছে। সুইমিং পুলে পর্যাপ্ত ক্লোরিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, জলাশয়ে নামলে অবশ্যই নাক বন্ধ রাখতে হবে অথবা নোজ ক্লিপ ব্যবহার করতে হবে। কোনও রকম উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করানোই এখন একমাত্র উপায়।
পরিবেশগত পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান উষ্ণতাকে বিশেষজ্ঞরা এই জীবাণুর বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। আগে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এ বার আক্রান্তরা বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে রয়েছেন। ফলে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সচেতনতা এবং সতর্কতাই এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কারণ একবার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।
