ওঙ্কার ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। ভাইকে হত্যার মূল অভিযুক্তদের একজনকে রাতের অন্ধকারে কুপিয়ে মেরেছে দাদা। স্থানীয় খবর অনুযায়ী, এনটিপিসি থানার কেন্দুয়া অ্যাশপন্ড এলাকায় রবিবার মধ্যরাতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম আলম শেখ (৪৮), যিনি এলাকায় নৈশপ্রহরী হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে কাজে যাওয়ার পথে কয়েকজন ব্যক্তি আলম শেখের উপর চড়াও হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে মেরে যায় এবং ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ নিহতের দেহ উদ্ধার করে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তদন্ত শুরু হয়ে গেছে, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনার পেছনে দীর্ঘ দিনের পুরনো বিবাদ ছিল বলে জানা যাচ্ছে। জানা যায়, ২০১৫ সালে একই এলাকায় একটি গ্রামের বিবাদের জের ধরে একটি খুনের ঘটনায় জড়ানো হয়েছিল আলম শেখসহ কয়েকজনকে। সেই মামলায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারও করেছিল, পরে জামিনে মুক্তি পায় আলম শেখ। অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাই তৌফিক শেখকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ছিল মৃত্যুর মূল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন গ্রাম ছেড়ে থাকার পর পান্না শেখ নামের অভিযুক্ত মাস দু’য়েক আগে আবার এলাকায় ফিরে আসে এবং এর পরেই দিনশেষে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে।
ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের দাদা নবী শেখ, যিনি স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, দাবি করেছেন যে পান্না শেখ গ্রামে ফিরে আসার পর থেকেই একটি দুর্বৃত্তামি তৈরি হওয়ার চেষ্টা করছিল। তিনি বলেন, “পান্না ফিরে আসার পর একটা আশঙ্কা ছিল, কিন্তু ভাবতে পারিনি যে কেউ এত নৃশংসভাবে খুন করবে।” নিহত আলম শেখের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পুলিশ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত মোতায়েন করেছে। তদন্তকারীরা খুনের কারণ ও অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার জন্য সব দিক খতিয়ে দেখছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহের ময়নাতদন্ত চলছে এবং মামলার সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনের মূল ঘটনার পরিসর ও নেটওয়ার্ক জানতে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এদিকে, এলাকায় সাধারণ মানুষ আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তাদের দাবি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক।
