পশ্চিমবঙ্গে শিল্পনীতি নিয়ে বলতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রশংসা শোনা গেল প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর গলায়। তাঁর কথায় বুদ্ধবাবু শিল্প চেয়েছিলেন, কিন্তু দলের মতবিরোধ সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা।
বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর বলেন, “বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এ রাজ্যে শিল্পে বিনিয়োগ চেয়েছিলেন। এটা সত্যি। কিন্তু দলের বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে পারেননি। আমরাও তখন জোর করে কৃষিজমি অধিগ্রহণে বাধা দিয়েছিলাম। আজও কংগ্রেস সেই নীতিতেই আছে। জোর করে কৃষকের জমি কেড়ে শিল্প নয়।”
একই সঙ্গে বর্তমান ডবল ইঞ্জিন সরকারকে কটাক্ষ করে অধীরের মন্তব্য, “হাম দো হামারা দো। একদিকে নরেন্দ্র মোদী আর অমিত শাহ, অন্যদিকে আদানি আর আম্বানি। এর বাইরে বিজেপি বেরতে পারছে না।” তাঁর প্রশ্ন, “পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগের জন্য আদর্শ জায়গা। এখানে পাহাড় আছে, সমুদ্র আছে, মানে বন্দর আছে। প্রচুর স্কিলড বেকার যুবক আছে, খনিজ সম্পদের অভাব নেই। তা সত্ত্বেও শিল্পপতিরা এ রাজ্যে না এসে বিদেশে যাচ্ছে কেন? এর উত্তর খুঁজতে হবে।”
মমতা সরকারকেও নিশানা করেন অধীর। বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে কাগজে-কলমে প্রচুর বিনিয়োগ হয়েছে। সরকারের হিসাবে ২০-২২ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে, কিন্তু চোখে দেখা যায়নি। এই সরকারের আমলে আদানি গোষ্ঠী সল্টলেকে আরোগ্য মন্দির গড়তে চায়, খুব ভালো কথা। কিন্তু সেসব যেন কাগজে-কলমে না হয়।”
বলে রাখা ভালো, ২০০৬-০৮ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যখন ‘কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ’ স্লোগান দিয়ে সিঙ্গুরে টাটা এবং নন্দীগ্রামে কেমিক্যাল হাব করতে চেয়েছিলেন, তখন কংগ্রেসও তৃণমূলের সঙ্গে জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতায় সামিল হয়েছিল। সেই আন্দোলনই বাম সরকারের পতনের অন্যতম কারণ বলে চর্চিত রাজনৈতিক মহলে।
বুদ্ধদেবের সেই শিল্প-স্বপ্ন ভেস্তে যাওয়ার পর ১৫ বছরে বাংলায় বড় বিনিয়োগ আসেনি, এমন অভিযোগ বারবার উঠেছে। তৃণমূল সরকার প্রতি বছর বিজিবিএস করলেও বাস্তবে বিনিয়োগের প্রতিফলন কম, এই অভিযোগ বিরোধীদের। এবার নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফের শিল্প-বান্ধব নীতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তার মধ্যেই অধীরের মুখে বুদ্ধদেব-বন্দনা নতুন রাজনৈতিক ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।