ওঙ্কার ডেস্ক: সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করতে গিয়ে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের জন্য দেশের আর্থিক খাতে একাধিক কাঠামোগত সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ‘বিকশিত ভারত’ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ব্যাংকিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং ব্যবসা করার পরিবেশ আরও সহজ করার দিকেই এবার মূল জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রীর উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হলো ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রস্তাব। ‘বিকশিত ভারত’ ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই কমিটি দেশের সমগ্র ব্যাংকিং ব্যবস্থা সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক এবং নন-ব্যাংকিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানিগুলির একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা করবে। আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আরও বেশি মানুষের কাছে ব্যাংকিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং গ্রাহক সুরক্ষা জোরদার করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করবে এই প্যানেল।
অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতের ব্যালান্স শিট মজবুত, লাভজনকতা রেকর্ড স্তরে এবং প্রায় ৯৮ শতাংশ গ্রাম এখন ব্যাংকিং পরিষেবার আওতায় এসেছে। এই শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়েই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা, পরিসর ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই নজর দেবে কমিটি।
বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো অর্থায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী পাওয়ার ফাইন্যান্স কর্পোরেশন এবং রুরাল ইলেক্ট্রিফিকেশন কর্পোরেশনকে পুনর্গঠনের প্রস্তাবও ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে এই সংস্থাগুলির আকার ও কার্যক্ষমতা বাড়বে এবং বিদ্যুৎ খাতে বড় প্রকল্পগুলিতে দ্রুত অর্থ জোগান সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্টের অধীনে নন-ডেট ইনস্ট্রুমেন্ট সংক্রান্ত নিয়মগুলিরও সামগ্রিক পুনর্বিবেচনার কথা জানানো হয়েছে। আরও আধুনিক ও ব্যবহারবান্ধব কাঠামো তৈরি করে প্রক্রিয়া সহজ করা হবে, যাতে বৈশ্বিক পুঁজি সহজে ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করতে পারে। পাশাপাশি কর্পোরেট ও মিউনিসিপ্যাল বন্ড বাজারকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পুরসভাগুলিকে বড় অঙ্কের বন্ড ইস্যু করতে উৎসাহ দেওয়া হবে, যাতে নগর অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিকল্প তহবিলের উৎস তৈরি হয়।
বিদেশে বসবাসকারী ব্যক্তিদের জন্যও নতুন সুযোগের ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁরা এখন পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট স্কিমের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ভারতীয় সংস্থার শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারবেন। ব্যক্তিগত বিনিয়োগের সীমা পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দশ শতাংশ এবং সম্মিলিত সীমা দশ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৪ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর ফলে শেয়ারবাজারে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে এই প্রস্তাবগুলি দেশের আর্থিক পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য একটি সুসংহত ভিত্তি তৈরি করবে বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের। বাজেট ঘোষণার পর বাজারেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
