ওঙ্কার ডেস্ক: কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণার পরেই দেশের শেয়ারবাজারে তীব্র ধাক্কা লাগল। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বাজেট ভাষণ শেষ হতেই দালাল স্ট্রিটে শুরু হয় ব্যাপক বিক্রির চাপ। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সূচক দ্রুত নীচের দিকে নামতে থাকে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
২০২৬-২৭-এর বাজেট পেশ শেষ করার পর উল্লেখযোগ্যভাবে পরে গেছে শেয়ার বাজারের সূচক। রবিবার অর্থমন্ত্রী নির্মালা সীতারামনের ভাষণের পর এক ধাক্কায় সেনসেক্স নেমেছে ১৬০০ পয়েন্ট, পাশাপাশি নিফটিও ৪৮০ পয়েন্ট পড়ে গেছে। ফিউচারের উপর এসটিটি ০.০২% থেকে ০.০৫% এবং অপশনের উপর ০.১% থেকে ০.১৫% বৃদ্ধি পেয়েছে শেয়ার বাজারে।
দিনের বিশেষ ট্রেডিং সেশনে সেনসেক্স হঠাৎ করেই এক হাজার পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়। একসময় পতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়, ফলে বাজারে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। নিফটিও উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক স্তরের নীচে চলে যায়। বড়, মাঝারি ও ক্ষুদ্র প্রায় সব শ্রেণির শেয়ারেই বিক্রির চাপ দেখা যায়। ব্যাংকিং, আর্থিক পরিষেবা, আইটি এবং ডেরিভেটিভস সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলিতে পতন সবচেয়ে বেশি ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটে লেনদেন সংক্রান্ত কর বৃদ্ধির ঘোষণা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ডেরিভেটিভস ট্রেডিংয়ে অতিরিক্ত করের বোঝা বাড়ায় ট্রেডার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেন। ফলে বড় অঙ্কের বিক্রি শুরু হয় এবং সূচক দ্রুত নিম্নমুখী হয়। একইসঙ্গে বাজেট থেকে প্রত্যাশিত কিছু প্রণোদনা না পাওয়ায় বাজারে হতাশার সুর শোনা যায়।
এই আকস্মিক পতনের জেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাজার মূলধনের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা উবে যায়। বহু খুচরো বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়েন। তবে দিনের শেষভাগে কিছুটা কেনাকাটা ফিরে আসায় সূচক আংশিকভাবে ঘুরে দাঁড়ালেও সামগ্রিকভাবে বাজারের মেজাজ চাপে রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট-পরবর্তী সময়ে বাজারে এই ধরনের অস্থিরতা নতুন নয়। বড় নীতিগত পরিবর্তন বা কর কাঠামোয় সংশোধন হলে বিনিয়োগকারীরা প্রথমে ঝুঁকি কমাতে চান। সেই কারণেই বাজেটের পরপরই এই তীব্র ওঠানামা দেখা যায়। আগামী কয়েকদিন বিনিয়োগকারীরা সরকারের ঘোষণাগুলির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মূল্যায়ন করবেন বলেই মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।
