স্পোর্টস রিপোর্টার : আগামী মাসে সিএবির যুগ্ম সচিব নির্বাচন আর তার আগেই উত্তাল বাংলা ক্রিকেটের অন্দরমহল। আগেই প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া ক্রীড়াক্ষেত্রে নানা দুর্নীতি নিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকে চিঠি দেন। তার পাল্টা হিসেবে সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে জানান সিএবি স্বচ্ছভাবে চলছে। এবারে ক্রীড়ামন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন সায়ন্তন সিনহা নামে কলকাতা হাই কোর্টের এক আইনজীবী। জানিয়েছেন, গতবছর ১৪ আগস্ট এই একই মর্মে তিনি চিঠি দিয়েছিলেন সিএবি সভাপতি, সচিব সহ একাধিক ব্যক্তিকে। সায়ন্তন অভিযোগ এনেছেন সিএবি সদস্য অম্বরীশ মিত্রর বিরুদ্ধে। সংস্থার ক্রিকেটীয় কার্যকলাপের সঙ্গে অম্বরীশ যুক্ত। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে একের পর এক উঠতি ক্রিকেটারের থেকে টাকা আদায় করেছেন, এমনটাই অভিযোগ।
টাকা আদায়ের প্রমাণ হিসাবে একাধিক স্ক্রিনশটও তুলে ধরেছেন সায়ন্তন। সেখানে অম্বরীশের সঙ্গে চ্যাটের স্ক্রিনশট রয়েছে। সেখানে সিএবি সদস্য সরাসরি আশ্বাস দিচ্ছেন, টাকা মিটিয়ে দিলেই ক্রিকেটারদের দল পাওয়া নিশ্চিত। মূলত জুনিয়র পর্যায়ের টুর্নামেন্টগুলিতে ক্রিকেটারদের সুযোগ করে দেওয়া হত অর্থের বিনিময়ে। কয়েক দফায় অনলাইনে এই টাকা পাঠানো হয়েছে অম্বরীশের অ্যাকাউন্টে, সেই প্রমাণও মিলেছে ওই স্ক্রিনশটগুলিতে। অন্তত কয়েক লক্ষ টাকার লেনদেনের প্রমাণ স্রেফ স্ক্রিনশটগুলিতেই রয়েছে।সায়ন্তন জানিয়েছেন, ‘‘আমি একটি স্বাধীন তদন্ত করার অনুরোধ করেছিলাম। তদন্ত চলাকালীন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সমস্ত অফিশিয়াল দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করার অনুরোধও জানিয়েছিলাম। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কোনও তদন্ত হয়েছে কি না জানানো হয়নি। কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি। কাউকেই কোনও অগ্রগতি বা ফলাফল সম্পর্কে অবহিত করা হয়নি।’’
অভিযোগে আরও জানানো হয়েছে, ‘‘অম্বরীশ এখনও ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং নিয়মিত অফিশিয়াল দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলা দলের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন। সিএবির ব্যানারে আয়োজিত অফিশিয়াল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও অন্যান্য অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেছেন।’’যদিও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যিনি অভিযোগ করেন তিনি আবার অভিযোগ তুলেও নেন। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এজিএম তার আগে সিএবিকে বেকায়দায় ফেলতে এগুলো করা হচ্ছে।