ওঙ্কার ডেস্ক: ইরান এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পথে হাঁটতে চলেছে। সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের জেরে সাধারণ নাগরিকদের মৃত্যু, হাসপাতাল ও চিকিৎসা পরিষেবার ওপর হামলা এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক আইনি লড়াই শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে তেহরান। এই বিষয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেইনি দেশের বিচার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
খামেইনির বক্তব্য, সাম্প্রতিক সংঘাতে বহু নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলিতে হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধকালীন আন্তর্জাতিক নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই এই ঘটনাগুলির জন্য দায়ীদের আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, শুধু সামরিক সংঘর্ষের দিকটি নয়, এর মানবিক প্রভাবও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিচার হওয়া উচিত।
তিনি আরও জানান, সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি ব্যক্তি এবং প্রতিটি ঘটনার আলাদা আইনি মূল্য রয়েছে। নিহতদের পরিবার, আহত ব্যক্তি, ধ্বংস হওয়া হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে পৃথকভাবে মামলা দায়েরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ জন্য দেশের বিচার বিভাগকে দ্রুত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক আদালতে উপস্থাপনের উপযোগী আইনি কাঠামো তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খামেইনির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের বিভিন্ন শীর্ষ নেতার প্রকাশ্য মন্তব্য ও বিবৃতিতেই সামরিক অভিযানের স্বীকৃতি মিলেছে। তাঁর মতে, এই ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক আদালতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পাশাপাশি ওই দেশগুলির নেতৃত্ব যে অভিযানের সাফল্যের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরছে, তা আইনি বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক আদালতের পাশাপাশি প্রয়োজনে অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাছেও অভিযোগ দায়ের করা হবে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়ে বিশ্বজনমত গড়ে তোলার চেষ্টাও করবে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি এবার আইনি ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার উদ্যোগ কেবল প্রতীকী পদক্ষেপ নয়, বরং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার একটি প্রচেষ্টাও হতে পারে। যদিও এই ধরনের মামলার নিষ্পত্তি দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিক আদালতের এখতিয়ার ও বিভিন্ন রাষ্ট্রের সহযোগিতার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল, তবুও এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়াতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের অভিমত।