নিজস্ব প্রতিনিধি : স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে রবিবার ঝাড়গ্রাম জেলার মানিকপাড়ার নেতাজি ক্লাবে একাধিক জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির পালন করল গঙ্গা মিশন। বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ বিতরণ, চারা গাছ প্রদান এবং বিদ্যালয়গুলিতে পানীয় জল বিশুদ্ধকরণের ফিল্টার বিতরণের মধ্য দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের পাশে থাকার বার্তা তুলে ধরা হয়। বিনামূল্যের স্বাস্থ্য শিবিরে কলকাতা থেকে আগত অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা এলাকার শতাধিক মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন। পাশাপাশি চক্ষু পরীক্ষারও ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসা শেষে রোগীদের হাতে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ তুলে দেওয়া হয় গঙ্গা মিশনের পক্ষ থেকে।

পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে অনুষ্ঠানে প্রায় তিন হাজার বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ বিতরণ করা হয়। উপস্থিত সকলকে গাছ লাগানোর পাশাপাশি তার পরিচর্যা করার আহ্বান জানান উদ্যোক্তারা।
এছাড়াও একই দিনে কুড়মি সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মানিকপাড়া এলাকার দশটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের হাতে পানীয় জল বিশুদ্ধকরণের ফিল্টার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গঙ্গা মিশন সংস্থার রাষ্ট্রীয় সচিব প্রহ্লাদ রায় গোয়েঙ্কা বলেন, “গঙ্গা শুধু একটি নদী নয়, এটি আমাদের দেশের সংস্কৃতি, সভ্যতা ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতীক। গঙ্গাকে নির্মল ও দূষণমুক্ত রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব। শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এই লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “গঙ্গা মিশন দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। একটি সুস্থ ও সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে পরিবেশ রক্ষা, নিরাপদ পানীয় জল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।” বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রত্যেক মানুষ যদি অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার যত্ন নেন, তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”

এই অনুষ্ঠানে গঙ্গা মিশনের রাষ্ট্রীয় সচিব প্রহ্লাদ রায় ও গোয়েঙ্কা, ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গঙ্গা মিশন সংস্থার জাতীয় সহ-সভাপতি শৈবাল গাঙ্গুলি, গোপীবল্লভপুর বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী রাজেশ মাহাতো, ঝাড়গ্রাম বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ,এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার বহু সাধারণ মানুষ।