স্পোর্টস রিপোর্টার : যতদিন যাচ্ছে সিএবিতে নির্বাচনের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় তৃণমূল সরকারের ঘনিষ্ট হওয়ার সুবাদে গত বছর সিএবিতে নির্বাচন হয়নি এমন অভিযোগ ওঠে। এবারে রাজ্যে পালাবদলের পরে আগামী ২০ জুলাই সিএবির যুগ্ম সচিব নির্বাচন। তার আগে সিএবিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আর অভিষেক ডালমিয়া গোষ্ঠীর বিরোধ চরমে। একদিকে অভিষেক সিএবি নিয়ে চিঠি দিয়ে চলেছেন ক্রীড়া মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকে। সৌরভও ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বলেন সিএবিতে দুর্নীতি নেই।
এবার সিএবির প্রাক্তন সচিব তথা এরিয়ান ক্লাবের কর্তা সমর পাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিষেক ডালমিয়ার বিরুদ্ধে চিঠি দিলেন। সমর পাল লেখেন, ‘‘২০১৯ সালের অক্টোবরে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হয়ে যাওয়ার পর সিএবির সভাপতির পদটি ফাঁকা হয়েছিল। আমি ২০১৭ সালে সিএবি-র সহ-সভাপতি হই এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত সেই পদে বহাল ছিলাম। সেই হিসেবে সভাপতি হওয়ার যোগ্য ও আইনত দাবিদার আমিই ছিলাম। আমার উপর সদস্যদের পূর্ণ সমর্থনও ছিল। তা সত্ত্বেও, অভিষেক তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সঙ্গে দেখা করে নিজের সভাপতি হওয়া নিশ্চিত করেছিলেন।
২০১৫ সালে জগমোহন ডালমিয়া প্রয়াত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁর পুত্র অভিষেক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন যাতে সিএবিতে পদ পান। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জগমোহন ডালমিয়ার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে অভিষেককে সিএবির সচিব পদে বসিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ অভিষেক তার আগে কোনও কমিটির সদস্য ছিলেন না এবং অ্যাসোসিয়েশনের জন্য কাজও করেননি। তখন সিএবির বহু সদস্য, যাঁরা বছরের পর বছর ধরে সংস্থার সেবা করে গিয়েছেন, তাঁরা বঞ্চিত হন।’’

জগমোহন ডালমিয়ার শেষকৃত্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সিএবির ক্ষেত্রে তৃণমূল সরকারের সবচেয়ে বেশি সুবিধা নাকি অভিষেক পেয়েছেন বলে চিঠিতে দাবি করেছেন সমর। তিনি লিখেছেন, ‘‘২০১৫ সালে তাঁর বাবার মৃত্যুর পর থেকে অভিষেক টানা সাত বছর সিএবির ক্ষমতায় থেকেছেন। চার বছর সচিব এবং তিন বছর সভাপতি ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে আর কেউ এত দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষমতা ভোগ করেননি। পূর্ববর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিলেন অভিষেক।’’ প্রসঙ্গত সমর পাল ২০০৭ সালে সিএবি নির্বাচনের সৌরভের সমর্থন করা প্রসূন মুখোপাধ্যায় গোষ্ঠীর প্রার্থী ছিলেন অর্থাৎ জগমোহন ডালমিয়ার বিরোধী গোষ্ঠীর। ২০১৬ সালে আবার অভিষেকের দিদি বৈশালী ডালমিয়াকে বালি থেকে বিধায়ক করেন মমতা যদিও ২০২১ নির্বাচনে বৈশালী বিজেপির প্রার্থী হন আর পরাজিত হন।