CESS money collection
H- সেস আদায়ে বিপুল অর্থ জমা দেয়নি কেন্দ্র, সিএজির রিপোর্টে চাঞ্চল্য
ওঙ্কার ডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ পর্যন্ত বিভিন্ন সেস বাবদ যে বিপুল অর্থ আদায় করেছে, তার বড় অংশই নির্ধারিত খাতে জমা পড়েনি ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)-এর সর্বশেষ রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিপোর্ট বলছে, প্রায় ৩.৬৯ লক্ষ কোটি টাকা আদায় হলেও তা সংশ্লিষ্ট তহবিলে জমা না গিয়ে সাধারণ সরকারি তহবিলেই থেকে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, সেস মূলত এমন এক ধরনের কর, যা নির্দিষ্ট খাতের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করার জন্য আদায় করা হয় যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তেল শিল্প, জাতীয় সড়ক কিংবা সুরক্ষা খাত। কিন্তু সিএজির প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বহু ক্ষেত্রেই সেই অর্থ নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছায়নি। সবচেয়ে বড় ঘাটতি ধরা পড়েছে তেল শিল্প উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষেত্রে। ১৯৭৪ সালে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পের উন্নয়নের জন্য এই বোর্ড গঠিত হয় এবং তখন থেকেই সেস আদায় শুরু হয়। ১৯৭৪-৭৫ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত এই খাতে মোট আদায় হয়েছে ২ লক্ষ ৯৪ হাজার ৮৫০ কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু বোর্ডে জমা পড়েছে মাত্র ৯০২ কোটি টাকা তা-ও ১৯৯১-৯২ সালের মধ্যে। তারপর থেকে এক টাকাও জমা হয়নি। অর্থাৎ সংগৃহীত অর্থের ১ শতাংশেরও কম নির্দিষ্ট খাতে গিয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও পরিস্থিতি একই রকম। ২০০৪ সালে শিক্ষায় ২% সেস, ২০০৭ সালে উচ্চশিক্ষায় অতিরিক্ত ১% সেস, আর ২০১৭ সালে সম্মিলিতভাবে ৪% সেস চালু হয়। ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত এই সেস বাবদ ৩৭ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা আদায় হলেও, সিএজির দাবি এই অর্থও নির্ধারিত তহবিলে জমা পড়েনি।
অর্থ মন্ত্রক অবশ্য জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ থেকে ‘অয়েল ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ চালু হয়েছে, যা তেল শিল্পে সরাসরি বিনিয়োগে ব্যবহার হবে। তবে অতীতে জমা না হওয়া বিপুল অর্থের হিসাব নিয়ে রিপোর্টে এখনও স্পষ্ট জবাব নেই। এর আগে কয়েক মাস আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক সংসদে সেস ও সারচার্জ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান দিয়েছিল। ওই তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত কার্যকর থাকা সেস ও সারচার্জের পরিমাণ ক্রমশ বেড়েছে। করের মূল হার একই থাকলেও, তার উপরে ধার্য এই অতিরিক্ত মাসুলের হার ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন বা তেল শিল্পের জন্য আলাদা সেস ছাড়াও করদাতাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট খাতে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহের জন্য সারচার্জও কার্যকর হয়েছে।
সিএজির এই রিপোর্ট সামনে আসায় বিরোধীরা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে কর আদায় করেও যদি তা গন্তব্যে না পৌঁছায়, তবে এর ফলে জনস্বার্থমূলক প্রকল্পের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
