ওঙ্কার ডেস্ক: প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে প্রত্যেকের। তবে সেই অধিকারকে কাজে লাগিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনও জায়গা দখল করে রাখা যায় না। এমনই পর্যবেক্ষণ জানাল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের মতে, বিক্ষোভের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া জায়গাতেও প্রতিবাদের সময়সীমা থাকা প্রয়োজন।
গত মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে বড়সড় বিক্ষোভ এবং সম্প্রতি রামলীলা ময়দানে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলির প্রতিবাদ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করেছে সর্বোচ্চ আদালত। উল্লেখ্য, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাহার করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরিবর্তে রামলীলা ময়দান-সহ তিনটি বিকল্প জায়গার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। শুনানিতে কেন্দ্রের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তাঁর বক্তব্য, কোনও সংগঠন বা ব্যক্তি বিক্ষোভের ডাক দিলে তার পরিণতির দায়ও তাদের নিতে হবে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, কোনও জায়গা চিরকালের জন্য দখল করে রাখা যায় না। অন্যদেরও প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কৃষক বা আইনজীবীরা বিক্ষোভ করতে চাইলে কোথায় যাবেন? প্রত্যেকেরই প্রতিবাদ জানানোর অধিকার আছে। তবে নির্দিষ্ট কোনও স্থান অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা যায় না।
উৎসবের মরশুমে বিক্ষোভ বন্ধের আর্জি জানিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির দায়ের করা মামলাতেও কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য জানতে চেয়েছে আদালত। তুষার মেহতা আদালতকে জানান, ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভের জন্য মাত্র এক দিনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা নির্ধারিত সময়ের পরেও সেখানে অবস্থান করেন। এমনকি সংসদ ভবনের দিকে মিছিলও করেন। তাঁর বক্তব্য, সংসদ কোনও সাধারণ রাজনৈতিক ভবন নয়। সেখানে কিংবা সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করে যাওয়া যায় না। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনাও। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির আবেদনে বিরোধী দলগুলিকে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ। নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজক দলগুলিকে মামলার পক্ষ করার কথা বলা হয়েছে।