নিজস্ব সংবাদদাতা : কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশন (CVC) ২০২৫ সালের জন্য একটি সামগ্রিক কর্মসূচি নিয়েছে। যা হল- “সতর্কতা – আমাদের দায়িত্ব”। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ যখন ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত জাতিতে পরিণত হওয়ার অঙ্গীকার নিয়েছে, তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কলকাতা জোনে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াও এই ধরণের কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রতি বছরই বৃহত্তর স্বার্থে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া নানান কর্মসূচি নিয়ে থাকে। তারই অঙ্গ হিসেবে এবছর বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত উপযোগী ‘সতর্কতা সচেতনতা অভিযান’ কর্মসূচি নিয়েছে। এই অভিযানের মধ্য দিয়ে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মানুষকে বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকার বার্তা দিতে চাইছে। এক্ষেত্রে মূল প্রয়োজনীয়তাগুলি মেটানোর আগে নিজেদেরকে অভিজ্ঞ করা, সৎ ব্যবসায়িক মূল্যবোধ গড়ে তোলা, বিশ্বস্ততা, সততা এবং কর্মক্ষেত্রে আনুগত্য গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। প্রতিষ্ঠানের তরফে জানানো হয়েছে, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ৩০ অক্টোবর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২৭ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত সতর্কতা সচেতনতা সপ্তাহ (VAW) উদযাপন করা হচ্ছে।
এই সতর্কতা সচেতনতা অভিযানের অংশ হিসেবে কলকাতা জোনের সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার সকল শাখা ও অফিসের জোনাল প্রধান তারসেম সিং জিরার নেতৃত্বে বহু প্রচারমূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। চীফ সুপারভাইজার সুনীল অরোরা সহ ডেপুটি জোনাল প্রধান রাজ কোকিল সিং, কলকাতা উত্তর আঞ্চলিক প্রধান সুনীল কুমার, এবং কলকাতা দক্ষিণের আঞ্চলিক প্রধান উজ্জ্বল কুমার চন্দ্রর উপস্থিতিতে ব্যাঙ্কের কর্মীদের এবং স্থানীয় মানুষদের নিয়ে নানান গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম চলছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে জনগণকে সচেতন করা, গ্রামীণ ও মফঃস্বল শাখায় গ্রামসভা, নগর ও মেট্রো শাখায় অভিযোগগুলির সমাধান শিবির, কর্মীদের জন্য কর্মশালা এবং সংবেদনশীলতা কর্মসূচি, সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের বক্তৃতা, স্কুলে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কুইজ, বিতর্ক, কর্মীদের জন্য কুইজ প্রতিযোগিতা, কর্মীদের শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন পোশাক ও ভিডিও প্রতিযোগিতা। এছাড়াও রয়েছে ওয়াকাথন, মিনি ম্যারাথন, সাইক্লোথন র্যাগলি প্রভৃতি।

এই সব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল গ্রাহকদের মধ্যে সতর্কতা, নিরাপদ এবং সুরক্ষিত ব্যাঙ্কিং-এর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। ব্যাঙ্কের কাজকর্মের ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, সহজ ভাবে পরিচালনা করা এবং গ্রাহকের সুবিধাই মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলস্বরূপ, আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে ব্যাঙ্কের পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য শুরু হয়েছে ডিজিটাল পদ্ধতি। তাই যখন মানুষ ডিজিটাল মোড, মোবাইল ব্যাঙ্কিং বা ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং-এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট সামলায় তখন তারা সাইবার-অপরাধের কারণে নানা রকম ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। জাতীয় পর্যায়ে সাইবার জালিয়াতির সংখ্যা লাগাতার বেড়ে চলেছে। তাই লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কলকাতা জোনের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তাই গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা জাগাতে কাজ করে চলবে বলে জানানো হয়েছে।
জনসচেতনতার ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক আধিকারিকের কাছে কিছু প্রশ্ন
প্রশ্ন- ১ : সতর্কতা সচেতনতা অভিযানের অংশ হিসেবে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে জনসাধারণের জন্য কী বার্তা রয়েছে ?
উত্তর : আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হল জন সচেতনতা বাড়ানো। ব্যাংক থেকে দেওয়া আর্থিক সহায়তার জন্য, সরাসরি আপনার শাখায় যোগাযোগ করুন। কোনও মধ্যস্থতাকারীর ফাঁদে পা দেবেন না। সমস্ত ঋণ প্রকল্প, তা সে ব্যাঙ্ক বা সরকার থেকে পরিচালিত হোক না কেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে তা দেখা হয়। যদি আপনি কোনও অনিয়মিত লেনদেন লক্ষ্য করেন, তাহলে অবিলম্বে রিপোর্ট করুন।
প্রশ্ন ২ : গ্রাহক বা সাধারণ নাগরিকদের কাছে কোনও অনিয়ম সম্পর্কে রিপোর্ট করার জন্য ব্যাঙ্কগুলিতে কি ব্যবস্থা রয়েছে ?
উত্তর : প্রথমত, শাখায় অভিযোগ করা যেতে পারে এবং প্রয়োজনে আঞ্চলিক অফিস বা জোনাল অফিসে ফোনে বা লিখিতভাবে জানানো যেতে পারে।
প্রশ্ন ৩ : আজকাল ব্যাঙ্কগুলিতে, বিশেষ করে ডিজিটাল ব্যাঙ্ক লেনদেনে জালিয়াতির ঘটনাগুলি রিপোর্ট করা হচ্ছে। আপনি কি এই বিষয়ে কিছু বলবেন ?
উত্তর : এই ক্ষেত্রে, আমি একথাই বলবো, কোনও অজানা লিঙ্ক বা অ্যাপে ক্লিক করবেন না, কোনও OTP বা ব্যাঙ্কং তথ্য শেয়ার করবেন না, সাইবার জালিয়াতি বা সাইবার গ্রেপ্তার এড়াবেন না, আতঙ্কিত হবেন না এবং সময় বেশি নেবেন না। যদি বিষয়টি সাইবার জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে আপনি হেল্পলাইন নম্বর 1930 অথবা সাইবার পোর্টাল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
