ওঙ্কার ডেস্ক: দেশজুড়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সতর্কীকরণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। শনিবার হঠাৎই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোটি কোটি মোবাইল ফোনে বেজে ওঠে তীব্র শব্দের জরুরি সতর্কবার্তা। ‘এক্সট্রিমলি সিভিয়ার’ বা অত্যন্ত গুরুতর সতর্কতা সংবলিত এই বার্তা পেয়ে বহু মানুষ প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে পরে স্পষ্ট করা হয়, এটি কোনও বাস্তব বিপর্যয়ের সংকেত নয়, বরং জাতীয় স্তরে পরিচালিত একটি পরীক্ষামূলক মহড়া।
সরকারি উদ্যোগে চালু হওয়া এই নতুন সেল ব্রডকাস্ট অ্যালার্ট সিস্টেমের মাধ্যমে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যুদ্ধ পরিস্থিতি, ভূমিকম্প, সুনামি, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত বা অন্যান্য জরুরি অবস্থায় নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের মোবাইল ফোনে সরাসরি সতর্কবার্তা পাঠানো সম্ভব হবে। জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, টেলিযোগাযোগ দপ্তর এবং সি-ডটের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই প্রযুক্তি দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই চালু করা হয়েছে।
এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, সাধারণ এসএমএস পরিষেবার মতো এটি নেটওয়ার্কের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে না। বরং একযোগে বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর ফোনে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। এমনকি ফোন সাইলেন্ট বা ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডে থাকলেও বিশেষ শব্দের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করা যায়। ফলে বিপর্যয়ের মুহূর্তে দ্রুত মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দিয়ে প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে।
পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের সময় বহু ব্যবহারকারী ইংরেজি, হিন্দি এবং আঞ্চলিক ভাষায় সতর্কবার্তা পান। বার্তায় জানানো হয়, এটি শুধুমাত্র একটি ট্রায়াল এবং এর জন্য কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবুও আচমকা এমন উচ্চস্বরে বার্তা পৌঁছনোর ফলে বহু মানুষের মধ্যে সাময়িক বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের জরুরি সতর্কীকরণ প্রোটোকল অনুসরণ করে এই প্রযুক্তি তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতে ভারত আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে দুর্যোগ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারবে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলিতে বহুদিন ধরেই এই ধরনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে এমন প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ দুর্যোগের সময় ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
সরকারের দাবি, এই আধুনিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা দেশের ডিজিটাল সুরক্ষা ও জননিরাপত্তা পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও এই পরিষেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে যে কোনও বিপদের মুহূর্তে দ্রুত সতর্ক করা সম্ভব হয়। প্রযুক্তিনির্ভর এই পদক্ষেপকে ভারতের দুর্যোগ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলেই মনে করা হচ্ছে।