নয়াদিল্লি: স্টারলিঙ্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং টেসলা কর্তা ইলন মাস্কের মধ্যে বাগযুদ্ধ চরমে উঠল। বৃহস্পতিবার টেলিকম দফতর মাস্কের অভিযোগ খারিজ করে দেওয়ার পরেই এক্স হ্যান্ডেলে বিস্ফোরক প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন বিশ্বের অন্যতম ধনী এই ব্যবসায়ী। তাঁর প্রশ্ন, “আম্বানিই কি ভারতের আসল বস?”
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রাখতে কিছু “অলিগার্চ” বা ধনকুবের ইচ্ছাকৃতভাবে স্টারলিঙ্ককে আটকে রাখছে। যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম নেননি।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দেয় টেলিকম মন্ত্রক। মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, দেশে টেলিকম এবং স্যাটেলাইট পরিষেবার লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং সবার জন্য সমান। কোনও সংস্থাকে বিশেষভাবে আটকানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন। মন্ত্রক জানায়, দেশে স্যাটকম পরিষেবা দিতে হলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক, তা যে সংস্থাই হোক না কেন।
মন্ত্রকের এই বিবৃতির পরেই এক্স-এ মাস্ক লেখেন, “স্টারলিঙ্ক ১৬৫টিরও বেশি দেশে লাইসেন্স পেয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে ভারত সরকারের প্রতিটি আইন এবং শর্ত আমরা মেনে চলেছি, তাহলে এখনও কেন লাইসেন্স পাচ্ছি না? আম্বানিই কি ভারতের আসল বস?”
সরকার জানিয়েছে, ইতিমধ্যে তিনটি সংস্থাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে – মাস্কের স্টারলিঙ্ক, রিলায়েন্স জিওর জিও স্যাটকম এবং ভারতী গ্রুপের ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব। কিন্তু নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাচাই এবং স্পেকট্রাম বরাদ্দের অনুমোদন না মেলা পর্যন্ত কোনও সংস্থাই বাণিজ্যিকভাবে পরিষেবা শুরু করতে পারবে না।
এই প্রসঙ্গে টেলিকম প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রশেখর পেম্মাসানি বলেন, “টেলিকম দফতর সব স্যাটকম সংস্থাকে লাইসেন্স এবং প্রাথমিক স্পেকট্রাম দিয়েছে। এখন বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে নিরাপত্তা ছাড়পত্রের জন্য পড়ে আছে। ছাড়পত্র পেলেই তারা পরিষেবা শুরু করতে পারবে। এর সঙ্গে কোনও একটি নির্দিষ্ট সংস্থার কোনও সম্পর্ক নেই।”
মণিপুরে জঙ্গিরা স্টারলিঙ্ক ব্যবহার করছে বলেও যে অভিযোগ উঠেছিল, তাও উড়িয়ে দিয়েছেন মাস্ক। তাঁর দাবি, ভারতের উপর স্টারলিঙ্কের স্যাটেলাইট বিমই বন্ধ রাখা আছে, তাই সেখানে এটি ব্যবহারের প্রশ্নই ওঠে না।
আরেকটি পোস্টে মাস্ক লেখেন, “ভারতে স্টারলিঙ্ক চালু হলে যারা বর্তমান দামে ইন্টারনেট নিতে পারেন না বা যাদের কাছে কোনও সংযোগই নেই, তারা উচ্চগতির সস্তা ইন্টারনেট পাবেন।”
ভারতের টেলিকম বাজার এখন রিলায়েন্স জিও, ভারতী এয়ারটেল এবং ভোডাফোন-আইডিয়ার দখলে। স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড একটি নতুন সম্ভাবনা, যা দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে পারে। এই বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এয়ারটেল চেয়ারম্যান সুনীল ভারতী মিত্তল বলেন, তাঁর সংস্থা ওয়ানওয়েবও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে জিও প্ল্যাটফর্মসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আকাশ আম্বানি জানান, তিনি মাস্কের মন্তব্য দেখেননি, তাই এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করবেন না।
এদিকে স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার বুধবার জানিয়েছেন, স্টারলিঙ্ক ভারতে পরিষেবা শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভারতের নিয়ম মেনে তারা দেশে ২০টি গেটওয়ে সাইট এবং কয়েকশো অ্যান্টেনা বসিয়েছে। এমনকি ভারতীয় ব্যবহারকারীদের ডেটা দেশের মধ্যেই রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
দিল্লিতে ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস চলাকালীন এই বিতর্ক সামনে আসায়, দেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ কোন পথে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা টেলিকম দুনিয়া।