বিক্রমাদিত্য বিশ্বাস, রায়গঞ্জ: শীত পড়তে এখনও ঢের দেরি। তার আগেই ঘন কুয়াশার জেরে রায়গঞ্জে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। দাঁড়িয়ে থাকা বালি বোঝাই লরির পেছনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা মারল একটি মুরগি বোঝাই পিকআপ ভ্যান। ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আরও ১ জন। শুক্রবার ভোররাতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জের ভিটি এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোর থেকেই গোটা রায়গঞ্জ জুড়ে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল চারপাশ। জাতীয় সড়কে ১০ হাত দূরের জিনিসও দেখা যাচ্ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাস্তার ধারে একটি বালি বোঝাই লরি দাঁড়িয়ে ছিল। কোনও রকম সিগন্যাল বা পার্কিং লাইট না জ্বালিয়েই লরিটি দাঁড় করানো ছিল বলে অভিযোগ। সেই সময় দ্রুত গতিতে আসা মুরগি বোঝাই গাড়িটি কুয়াশার কারণে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লরিটিকে দেখতে পায়নি। চালক কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রচণ্ড গতিতে লরির পেছনে ধাক্কা মারে। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মুরগি বোঝাই গাড়িটির সামনের অংশ একেবারে দুমড়ে মুচড়ে লরির ভেতরে ঢুকে যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ক্রেন এনে গাড়িটিকে সরিয়ে ভেতর থেকে আহত ও মৃতদের বের করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, তার অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর শীতকালে এই জাতীয় সড়কে কুয়াশার কারণে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে। ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসে, তার উপর রাস্তার ধারে আলো ছাড়া লরি দাঁড় করিয়ে রাখা এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোই এই মৃত্যুমিছিলের প্রধান কারণ। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কুয়াশা নিয়ে আগাম সতর্কতা বা রিফ্লেক্টর, ফগ লাইটের ব্যবস্থা না করার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। পুলিশ মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় জাতীয় সড়কে বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়।