অঞ্জন চট্টোপাধ্যায়
বৃহস্পতিবার ইস্টবেঙ্গলকে যুবভারতীতে সমীর জেলকোভিচের গোলে ১-০ ফলে হারিয়ে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ২২তম বার শিল্ড ঘরে তুলল। গতবছরের পর আবার শিল্ড জিতল মোহনবাগান এসজি। সবুজ মেরুন সমর্থকদের জন্য এর থেকে ভাল শারদীয়া উপহার আর কি হতে পারে। কলকাতা ফুটবল লিগও জিতেছিল সবুজ মেরুন। মোহনবাগান সদস্য-সমর্থকরা যখন শিল্ড জয়ের আনন্দে মাতবেন দুর্গা পুজোর উৎসবের দিনগুলিতে, তখন বাগান কোচ পানোসের একরাশ স্বস্তি। কারণ এমন রটনা ছিল বাগান শিল্ড ফাইনাল হারলে, তাঁর কোচিং ভবিষ্যত প্রশ্নের মুখে পড়ত।
গতবছর আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। তখন মোহনবাগান কোচের দায়িত্বে ছিলেন হোসে মোলিনা। আর ইস্টবেঙ্গলের কোচের চেয়ারে অস্কার ব্রুজোঁ। এবার নতুন মরশুমে শুধু যে কোচের জায়গাতেই বদল হয়েছিল তাই নয়, দু’দলেও অনেক ফুটবলার বদল। তবে বৃহস্পতিবার শিল্ড ফাইনাল ডার্বিতে মুখোমুখি হওয়ার আগে মোহনবাগান কোচ পানোস ও ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস অনেক ম্যাচ পেয়েছেন। দল গুছিয়ে নেওয়ার। বলা ভাল, শিল্ড ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগে আরও দু’বার ডার্বিতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই প্রধান। ডুরান্ড কাপের গ্রুপ লিগের ম্যাচে ও ফাইনালে। কলকাতা লিগের ডার্বি ধরলে তিনবার। চলতি মরসুমে ডার্বিতে সাফল্যের খতিয়ানের দিক থেকে ইস্টবেঙ্গলের পাল্লা ভারি ছিল শিল্ড ফাইনালের আগে পর্যন্ত।
ডুরান্ডের গ্রুপ লিগের ডার্বিতে মোহনবাগান জয় পেয়েছিল। কিন্তু কলকাতা লিগের ডার্বিতে সিনিয়র ফুটবলারদের খেলিয়েও রিজার্ভ টিমের ফুটবলারদের নিয়ে খেলা ইস্টবেঙ্গলকে হারাতে পারেনি মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ম্যাচ ১-১ ড্র হয়েছিল। ডুরান্ড ফাইনালের ডার্বিতে মোহনবাগানকে দুরমুশ করে ৪-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল।দলের পারফরম্যান্সকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মোহনবাগান কোচ বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পারফরম্যান্স। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে দল যেভাবে খেলেছিল, তাতে আমি সন্তুষ্ট ছিলাম না। কিন্তু আজ আমরা খুব ভাল ম্যাচ খেলেছি। রক্ষণে ওরা হেড থেকে মাত্র একটি ভাল সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে। অন্যদিকে আক্রমণে আমরা অনেক সুযোগ ও পরিস্থিতি তৈরি করেছি, আরও গোল করতে পারতাম। শেষের কয়েক মিনিট বাদ দিলে পুরো ম্যাচেই আমাদের বল দখল ভাল ছিল।দল পিছিয়ে পড়ার পর শেষ দিকে কিছুটা চাপ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দলের পারফরম্যান্সে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এই জয় ভবিষ্যতের জন্য আমাকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।কলকাতা এবং এই ক্লাবের কাছে এই শিল্ডের গুরুত্ব আমি জানি। এটি ঐতিহাসিক একটি শিল্ড। তাই আশা করি সমর্থকরা আমাদের ওপর আরও বেশি বিশ্বাস রাখবেন। আমরাও নিজেদের ওপর আরও বেশি বিশ্বাস রাখব। কারণ এটা সবে শুরু হয়েছে এবং প্রত্যাশাও অনেক বেশি।কেউ বলেনি যে আমরা ১১ জন খেলোয়াড় নিয়ে বিভিন্ন পজিশনে কাজ করছিলাম। হঠাৎ একজনকে ফুলব্যাক খেলতে হয়েছে, আবার একজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার থেকে ফুলব্যাকে খেলেছে। এই পরিস্থিতিটা না বুঝে সমালোচনা করলে তার উত্তর দেওয়া কঠিন।এদিন মোহনবাগান কোচের পথ বেছে নিলেন হাবাস। সাংবাদিকদের মুখোমুখি না হয়েই মাঠ ছাড়েন। এই হাবাস যে পুরোপুরি অচেনা তেমন নয়। ১২ বছর আগে, ২০১৪ সালে আইএসএলের অভিষেক বছরে অ্যাটলেটিকোর কোচ ছিলেন হাবাস। তখন ময়দানে মেজাজি কোচ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁকে ভয় পেত দলের ফুটবলাররা। সাংবাদিকদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ দূর অস্ত, প্রায়ই অগ্রাহ্য করতেন। কিন্তু কালের নিয়মে বদলে যান বর্ষীয়ান কোচ। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ইনিংসে যখন কলকাতায় ফেরেন, তখন অনেকটাই নরম স্বভাবের হাবাসকে পাওয়া যায়।