ওঙ্কার ডেস্ক: ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে চীনা সংস্থাগুলির উপর যে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা শিথিল করার পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, সরকারি টেন্ডার ও পরিকাঠামো প্রকল্পে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে চীনা কোম্পানিগুলির উপর আরোপিত বিশেষ অনুমোদন ও নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আবারও বিপুল অঙ্কের সরকারি প্রকল্পে দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে চীনা সংস্থাগুলি।
গালওয়ান পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার একটি নির্দেশিকা জারি করে জানায়, স্থলসীমান্ত সংলগ্ন দেশগুলির সংস্থাগুলিকে সরকারি প্রকল্পে অংশ নিতে হলে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বিশেষ ছাড়পত্র নিতে হবে। মূলত এই নিয়মের জেরেই বহু চীনা কোম্পানি রেল, বিদ্যুৎ, টেলিকম ও অবকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্প থেকে কার্যত বাইরে চলে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রক ও সরকারি দফতরের তরফে অভিযোগ ওঠে, এই বিধিনিষেধের ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে এবং প্রতিযোগিতার অভাবে খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটেই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি নীতিগত পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে বলে জানা যাচ্ছে। কমিটির মত, নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সংবেদনশীল ক্ষেত্র বাদ দিয়ে সাধারণ অবকাঠামো ও পরিষেবা সংক্রান্ত প্রকল্পে চীনা সংস্থাগুলির অংশগ্রহণে বাধা না রাখাই বাস্তবসম্মত। এতে একদিকে যেমন প্রকল্পের গতি বাড়বে, তেমনই দরপত্রে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
তবে সরকারের অন্দরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ রয়েছে। একাংশের আশঙ্কা, বিধিনিষেধ শিথিল হলে দেশীয় সংস্থাগুলি চীনা কোম্পানির দামে টিকতে পারবে না। আবার অন্য পক্ষের দাবি, কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা যাচাই বজায় রেখেই বাণিজ্যিক স্তরে এই ছাড় দেওয়া যেতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি খাতে চীনা লগ্নির উপর যে কড়াকড়ি রয়েছে, তা আপাতত বহাল থাকছে বলেই ইঙ্গিত।
এই সম্ভাব্য নীতিবদলের খবরে শেয়ারবাজারেও প্রভাব পড়েছে। পরিকাঠামো ও ভারী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি দেশীয় সংস্থার শেয়ারে চাপ দেখা গিয়েছে, কারণ চীনা সংস্থার প্রত্যাবর্তনে প্রতিযোগিতা বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
