ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের কিশোরীদের জরায়ুমুখের ক্যানসার থেকে সুরক্ষা দিতে এবার স্কুলভিত্তিক টিকাকরণ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্যদপ্তর। সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলে পড়ুয়া নির্দিষ্ট বয়সের ছাত্রীদের স্কুলেই হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের লক্ষ্য, বেশি সংখ্যক কিশোরীকে সহজে এই টিকার আওতায় এনে ভবিষ্যতে জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলশিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জেলাভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতে আগে থেকেই ছাত্রীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সম্মতি সংগ্রহ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাকরণ শিবির পরিচালনার জন্য শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনিক কর্তাদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা হবে। নির্দিষ্ট দিনে স্বাস্থ্যকর্মীরা স্কুলে গিয়ে টিকাকরণ সম্পন্ন করবেন।
চিকিৎসকদের মতে, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি সংক্রমণই অধিকাংশ ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রধান কারণ। সময়মতো এই টিকা নেওয়া হলে শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় এবং ভবিষ্যতে জরায়ুমুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। তাই অল্প বয়সেই টিকাকরণকে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ধরা হয়। রাজ্যে ইতিমধ্যেই সরকারি উদ্যোগে এইচপিভি টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এবার সেই কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করতে স্কুলভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনও যোগ্য ছাত্রী টিকাকরণ থেকে বাদ না পড়ে। স্বাস্থ্যদপ্তরের আশা, স্কুলে গিয়েই টিকা দেওয়া হলে উপস্থিতির হার বাড়বে এবং অভিভাবকদেরও আলাদা করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।