প্রশান্ত কুমার দাস, মালদা: অবশেষে কৃষ্ণেন্দু-যুগের অবসান ঘটিয়ে ইংরেজবাজার পৌরসভার নতুন চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নিলেন বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ী। তিনি একই সঙ্গে ইংরেজবাজারের বিধায়ক এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।
বুধবার পৌরসভার বোর্ড মিটিংয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচন ছিল। মোট ২৯ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ২৬ জন উপস্থিত ছিলেন। তিনজন তৃণমূল কাউন্সিলর অনুপস্থিত ছিলেন। বিজেপির পক্ষ থেকে অম্লান ভাদুড়ীর নাম প্রস্তাব করা হয়। অন্য কোনও পক্ষ থেকে কোনও প্রার্থী না দেওয়ায় সর্বসম্মতিক্রমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এই নির্বাচনের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন। গত ৯ সেপ্টেম্বর ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। টানা ২৫ বছর ধরে চেয়ারম্যান এবং ৩১ বছর কাউন্সিলর থাকার রেকর্ড ছিল তাঁর।
ইস্তফার কারণ হিসাবে তিনি জানিয়েছিলেন, “কাজ করতে পারছিলাম না।” পৌরসভার ভাঁড়ার শূন্য, প্রায় ১৫ কোটি টাকা দেনা, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ৭ কোটি, ঠিকাদারদের বকেয়া ১০ কোটিরও বেশি। এই আর্থিক সংকটে পুরসভা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি। সেই সঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, “নতুন ছাতার অপেক্ষায় আছি, আয়তনে বড় কোনও ছাতা।”
সেই সূত্র ধরেই আজ শুভেন্দুর কাছে পৌঁছোন সাংবাদিকরা। সেখানে ভবিষতের দলবদল প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ উত্তর দেন কৃষ্ণেন্দু। বলেন, “পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে।” কংগ্রেস নাকি বিজেপি, কাকে বেশি গুরুত্ব দেবেন ভবিষতে? এই প্রশ্নের উত্তরেও সটান জবাব দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমার কাছে সব দলই ভালো।’ তাঁর কথায়, সব দলের নেতাদের সঙ্গেই তাঁর সৌজন্যের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে আগামীতে কৃষ্ণেন্দুর রাজনৈতিক চাকা কোন দিকে ঘুরবে তা নিয়ে কৌতূহল থেকেই যাচ্ছে।
কৃষ্ণেন্দুর পদত্যাগের পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়, তৃণমূলের ২৫ জন কাউন্সিলর থাকা সত্ত্বেও বোর্ড কি বিজেপির দখলে যাবে? কারণ রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন, দল দু’টুকরো হয়ে যাওয়া এবং কালিয়াগঞ্জের মতো পুরসভা বিজেপির দখলে যাওয়ার উদাহরণ সামনে ছিল। সেই জল্পনাই সত্যি হল। ভাইস চেয়ারপার্সন সুমালা আগরওয়াল এক সপ্তাহের জন্য দায়িত্ব সামলানোর পর আজ বিজেপি বিধায়কই পৌরপ্রধান হলেন।
উল্লেখ্য, কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী ১৯৯০ সাল থেকে কাউন্সিলর, ১৯৯৫ সালে প্রথম চেয়ারম্যান হন। কংগ্রেস থেকে তৃণমূল, ফের কংগ্রেস, আবার তৃণমূলে যোগ দিয়ে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রীও হয়েছিলেন। ২০২১ সালে ইংরেজবাজারে তৃণমূলের টিকিটে হেরে যাওয়ার পরও তিনি চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। বিজেপি তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেও তিনি বলেছিলেন, “কৃষ্ণেন্দু নতি স্বীকার করে না।” সেই দীর্ঘ অধ্যায় শেষ করে এবার ইংরেজবাজারে বিজেপির বোর্ড গঠন হল।