নিজস্ব সংবাদদাতা : নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্যের সংঘাত আরও বাড়ল। ভোটার তালিকা সংশোধনী প্রক্রিয়ায় নাম বাদ দেওয়া নিয়ে চলতি সংঘাতে যুক্ত হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুশিয়ারি। বুধবার বাঙালি হেনস্থা ও বাংলা ভাষার অবমাননার প্রতিবাদে দলীয় কর্মসূচিতে এদিন দলনেত্রী যোগ দেন ঝাড়গ্রামের পদযাত্রায়। এরপর দলের সভামঞ্চ থেকে তাঁর হুঁশিয়ারি, “ভোট তো এখনও আট মাস বাকি। এখন থেকেই অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছো ? ক্ষমতা দেখাচ্ছো ? কার ক্ষমতা দিয়ে এই কাজ করছো ? অমিত শাহর দালালি করছো ?” প্রসঙ্গত, ভোটার লিস্টে কারচুপির অভিযোগে মঙ্গলবার বারুইপুর পূর্ব ও ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের দুই ইআরও (Electoral Registration Officer) এবং দুই সহকারী ইআরও-কে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজুর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে গিয়ে মমতা বলেন, বলেন, “ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনাদের প্রটেক্ট করার দায়িত্ব আমাদের। ওরা কিছু করতে পারবে না। ওরা তো বসন্তের কোকিল— দু’মাসের জন্য আসে, আবার উড়ে যায়।” ভোটের এখনও বেশ কয়েকমাস বাকি। তবু এরমধ্যেই তীব্রতর হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত। ইতিমধ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রশাসনের কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে জানিয়ে দিলেন, “কর্মচারী থেকে অফিসার, সকলে নিশ্চিন্তে থাকবেন, আপনারা মানুষের কাজ করেন, তাই আপনাদের দেখা আমাদের কর্তব্য।” আর ভোটারদের ভয় কাটাতে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, “আমি আপনাদের পাহারাদার ছিলাম, আছি, থাকব, শুধু খেয়াল রাখবেন, যাতে কারও নাম না ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এই সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত আদতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এমন আবহ অতীতেও তৈরি করতে চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিবারই নির্বাচন আসার আগে পরিকল্পিতভাবে রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তাই তিনি উচ্চস্বরে জানিয়ে দিলেন, “বাংলা কারও চোখ রাঙানি সহ্য করবে না”।
বিজেপি ও কমিশনের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, “খেতে এলে রান্না করে খাওয়াব, কিন্তু বাংলার ভোটারদের নাম কাটতে দেব না। ওরা আমাকে জব্দ করতে চাইলে মানুষ ওদের স্তব্ধ করে দেবে”। তিনি আরও বলেন, “জ্যান্ত বাঘের চেয়ে আহত বাঘ বড় ভয়ঙ্কর, আমাকে আহত করার চেষ্টা করবেন না!” তাঁর সাফ কথা, “অনেক সহ্য করেছি, আর নয়। ভোটার লিস্ট সংশোধনের নামে যদি বাংলার প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ যায়, বাংলার ওপর অত্যাচার যদি বন্ধ না হয় তাহলে আমি কিন্তু সারাবিশ্ব ঘুরে তোমাদের মুখোশ খুলে দেব”।
