নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি : মুর্শিদাবাদের ঘটনা নিয়ে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। অভিযোগ ঘর ছাড়া হয়েছিল বহু স্থানীয় বাসিন্দা। প্রাণ গিয়েছিল একাধিক নিরিহ মানুষের। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর প্রয়োজনে ৩৫৬ ধারা জারি করার মতো কঠিন সুপারিশ করেন রাজ্যপাল। এরপর মুর্শিদাবাদে যান মুখ্যমন্ত্রী।ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করা হয়।মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির দিকে আঙুল তোলেন। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির প্রশাসনিক বৈঠক থেকে ফের একার দাঙ্গা নিয়ে মুখ খোলেন ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, দাঙ্গা হলে ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের।সেই কথা মনে করিয়ে শান্তির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।উত্তরবঙ্গের ডাবগ্রাম থেকে বলেন, ‘আমি দাঙ্গা চাই না, শান্তি চাই।’ এরপরই বিজেপির নাম না করে তোপ দেগে বলেন, “দাঙ্গা হলে রাজনীতির লোকেরা রাজনীতি করার সুযোগ পাবে। আমি দাঙ্গা চাই না।”

মঙ্গলবার ফুলবাড়ি ডাবগ্রামে বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারী অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এখানেই মুখ্যমন্ত্রীর কথায় উঠে আসে দাঙ্গার প্রসঙ্গ। শান্তির বার্তা দিয়ে নাম না করে বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে তোপ দাগেন মমতা। সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা দাঙ্গা করে, তারা দাঙ্গা নিয়ে জন্মায়। তারা মানুষের ভালো চায় না। দাঙ্গা হলে ঘর জ্বলবে, মানুষ মরবে। রাজনীতির লোকেরা রাজনীতি করার সুযোগ পাবে। আমি দাঙ্গা চাই না, শান্তি চাই।”

পাশাপাশি উন্নয়ন অস্ত্রে ফের একবার নাম না করে গেরুয়া শিবিরকে ঘায়েল করার চেষ্টা করেন ‘মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, অনেকে উন্নয়ন চোখে দেখতে পায় না ,তাদের চোখে সমস্যা হয়। ঠিক এরপর তিনি দাবি করেন, উত্তর বঙ্গে যা উন্নয়ন হয়েছে তা আগে কখনও হয়নি। উন্নয়ন দেখলে বিরোধীদের চোখে জল চলে আসবে বলেও দাবি তাঁর। পাশাপাশি তিনি বলেন চাইলে উন্নয়নের হিসাব দিতে তিনি প্রস্তুত। বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। অনেকে বলছেন, বিজেপির সাম্প্রদায়িক অস্ত্রকে ভোঁতা করতে তৃণমূল উন্নয়ন অস্ত্রে ব্যবহার করবে তার ইঙ্গিত দিয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
