ওঙ্কার ডেস্ক: চিংড়িঘাটা মোড়ে বহু প্রতীক্ষিত কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণকাজ শুক্রবার রাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত এই মেট্রো করিডরের অন্যতম জটিল রাস্তা, চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ পড়ে থাকা অংশের কাজ সম্পূর্ণ করতে এবার বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের দাবি, এই পর্ব সফলভাবে শেষ হলে শহরের পূর্বাঞ্চলের গণপরিবহণ ব্যবস্থায় গতি আসবে।
জানা গিয়েছে, চিংড়িঘাটা এলাকায় প্রায় ৩৬৬ মিটার অংশে গার্ডার বসানো ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করার জন্য দুই দফায় বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ১৫ মে রাত ৮টা থেকে ১৮ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ২২ মে রাত ৮টা থেকে ২৫ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত ইএম বাইপাসের নির্দিষ্ট অংশে যান চলাচলে কড়া বিধিনিষেধ থাকবে। এই সময়ে চিংড়িঘাটা মোড়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে, যার ফলে সল্টলেক, সেক্টর ফাইভ, নিউটাউন ও বিমানবন্দরমুখী যাত্রীদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হবে।
কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যানজট নিয়ন্ত্রণে একাধিক ডাইভার্সন রুট তৈরি করা হয়েছে। উত্তরমুখী গাড়িগুলিকে নির্দিষ্ট মোড় থেকে ঘুরিয়ে অন্য পথে পাঠানো হবে। একইভাবে দ্বিতীয় পর্যায়ে দক্ষিণমুখী যানবাহনের ক্ষেত্রেও বিশেষ রুট পরিবর্তন কার্যকর হবে। পণ্যবাহী ভারী যানবাহনের উপরও সময়ভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফলে প্রতিদিনের অফিসযাত্রী, স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী এবং বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের যাত্রাপথে সাময়িক ভোগান্তির তৈরি হয়েছে।
প্রশাসন ও মেট্রো কর্তৃপক্ষের মতে, এই সাময়িক অসুবিধার বিনিময়ে ভবিষ্যতে শহরবাসী আরও উন্নত ও দ্রুত পরিবহণ পরিষেবা পাবে। বহুদিন ধরে আটকে থাকা এই প্রকল্প শেষ হলে নিউ গড়িয়া থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত যাতায়াত অনেক সহজ হবে এবং পরবর্তীতে বিমানবন্দর পর্যন্ত সরাসরি মেট্রো সংযোগ কলকাতার পরিবহণ মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আনবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিংড়িঘাটা অংশটি সম্পূর্ণ হওয়া অরেঞ্জ লাইনের অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সংযোগ স্থাপিত হলে কলকাতার দক্ষিণ, পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। শহরের ক্রমবর্ধমান যানজট সমস্যার সমাধানে এই মেট্রো করিডর কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হলে উৎসব মরসুমের আগেই পরিষেবার বড় অংশ চালু করা সম্ভব হতে পারে। ফলে কলকাতার নাগরিকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় আরও আধুনিকতার ছোঁয়া আসবে।