ওঙ্কার ডেস্ক: দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল রাখতে এবং সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য আর সাধারণ পেট্রোল পাম্প থেকে বাল্ক পরিমাণে পেট্রোল বা ডিজেল কেনা যাবে না। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট বাল্ক সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে হবে।
সরকারি সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবহণ সংস্থা, নির্মাণ সংস্থা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যবহারকারী খুচরো পেট্রোল পাম্প থেকে বিপুল পরিমাণে জ্বালানি কিনতে শুরু করেছিল। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ গ্রাহকদের জন্য জ্বালানির প্রাপ্যতার উপর চাপ তৈরি হচ্ছিল, তেমনই বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হচ্ছিল। বিশেষ করে ডিজেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় কিছু জায়গায় দীর্ঘ লাইন এবং জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক হস্তক্ষেপ করে। নতুন নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি আর খুচরো বিক্রয়কেন্দ্র থেকে বাল্কে জ্বালানি তুলতে পারবে না। তাদের জন্য আলাদা বাল্ক ডিপো বা অনুমোদিত সরবরাহ চ্যানেলের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থা বজায় থাকবে। সরকারের মতে, এর ফলে খুচরো পাম্পগুলিতে অস্বাভাবিক চাপ কমবে এবং সাধারণ গ্রাহকরা স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি পেতে পারবেন।
জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে অপরিশোধিত তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার পর থেকেই জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। সেই আবহেই কেন্দ্র চায় দেশের অভ্যন্তরে খুচরো জ্বালানির সরবরাহ যাতে কোনওভাবে ব্যাহত না হয়। তাই পরিস্থিতির উপর নজর রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, খুচরো পাম্প থেকে ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রির ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানো হবে। কোথাও যাতে মজুতদারি, অতিরিক্ত কেনাকাটা বা পুনরায় বিক্রির ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলিকেও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হল সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং বাজারে অযথা চাপ বা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হওয়া রোধ করা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে এই নির্দেশিকার মেয়াদ ও কার্যকারিতা নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।