ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর এবার ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতার কৃতিত্ব দাবি করল চিন। সম্প্রতি বেজিংয়ে এক আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই দাবি করেন, চলতি বছরে বিশ্বের একাধিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে চিন এবং তার মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেকার সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনাও রয়েছে। তাঁর কথায়, সীমান্ত পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাওয়ার আগেই পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে চিন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
ওয়াং ই জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা চিনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময়ে বেজিং দুই দেশের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখে এবং সংযম বজায় রাখার বার্তা দেয়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই সংঘর্ষ বড় আকার ধারণ করেনি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একাধিক বার ভারত পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির কৃতিত্বে দাবি করলেও ভারত বরাবার তা খারিজ করে এসেছে। ভারত সরকার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির সিধান্ত কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় হয়নি। ভারতীয় অবস্থান অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত দুই দেশের সামরিক স্তরের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই নেওয়া হয়েছে। আবারও ভারত পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির কৃতিত্বের দাবিদার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কাশ্মিরের পেহেলগামে পর্যটকদের উপর হামলা চালায় পাকিস্তান মদনপুষ্ট ‘লস্কর-ই-তৈবা’-র একটি দল ‘দ্য রেসিসট্যান্ট ফ্রন্ট’। এর পর ভারতীয় সেনা সেই হামলার জবাবে চালায় ‘অপারেশন সিঁদুর’। তাতে পাকিস্তনের মোট নয়টি জঙ্গীঘাঁটি ধুলিস্যাৎ করে দেয় ভারতীয় সেনা। তারপরই যুদ্ধে লিপ্ত হয় দুই দেশ। চার দিন ব্যাপী যুদ্দের পর পাকিস্তান সেনার ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস ভারতের ডিজিএমও-র কাছে যুদ্ধ থামানোর অনুরোধ জানান। তারপর নয়া দিল্লিও যুদ্ধ থামানো র সিধান্ত নেয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই ধরনের দাবি করেছিলেন যে তাঁর উদ্যোগেই ভারত-পাক সংঘাত থেমেছে। সেই দাবিও ভারত সরকার প্রকাশ্যে খারিজ করে দেয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের ‘শান্তি-দূত’ হিসেবে তুলে ধরার কৌশলের অংশ হিসেবেই একের পর এক দেশ এই ধরনের দাবি করছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়া থেকে ইউক্রেন, মায়ানমার সহ একাধিক অঞ্চলে কূটনৈতিক সক্রিয়তার কথা তুলে ধরে চিন নিজেকে একটি দায়িত্বশীল বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভারত-পাক উত্তেজনার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে মধ্যস্থতার দাবি কেবল রাজনৈতিক বার্তাই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টারও ইঙ্গিত। তবে নয়াদিল্লির স্পষ্ট অবস্থানের ফলে আপাতত এই দাবিকে আন্তর্জাতিক স্তরে কতটা গ্রহণযোগ্যতা মিলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
