ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে ফের তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবথকেকলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বিলএলও এবং বিএলও-২ দের সঙ্গে বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। দিল্লির ক্ষমতা দখলের ডাক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার লড়াইয়ে প্রয়োজনে দিল্লি দখল করতেও পিছপা হবে না তৃণমূল।
এদিন বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি কেন্দ্রীয় ক্ষমতা অপব্যবহার করে বিরোধী রাজ্যগুলিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সব ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। পশ্চিমবঙ্গকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে এবং রাজ্যের স্বার্থকে উপেক্ষা করে কেন্দ্র একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয় না পেয়ে সংগঠিতভাবে লড়াইয়ে নামতে হবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের বিরুদ্ধে।
এদিন সভায় মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিজেপি শুধু রাজ্যে রাজ্যে বিভাজনের রাজনীতি করছে না, দিল্লির ক্ষমতাকে ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে। সেই কারণেই আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের লড়াই শুধু রাজ্য সীমাবদ্ধ থাকবে না, লড়াই পৌঁছবে দিল্লিতেও। তাঁর কথায়, এই লড়াই ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের অধিকার এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য।
মমতার বক্তব্যে রাজনৈতিক ভাষা ছিল তীব্র ও আক্রমণাত্মক। ‘দিল্লি দখল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে তিনি মূলত বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং নির্বাচনী লড়াইকে আরও জোরদার করার বার্তা দেন। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, সংগঠনকে শক্তিশালী করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং বিজেপির নীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে। তাঁর মতে, মানুষের সমর্থনই শেষ পর্যন্ত দিল্লির ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতে পারে। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
