ওঙ্কার ডেস্ক: বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই এবার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা একটি ভিডিও বার্তায় অনন্ত মহারাজ জানান, তাঁর কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্যে কেউ মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকলে তার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। একইসঙ্গে নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। তবে এই ক্ষমাপ্রার্থনার পরও বিতর্ক পুরোপুরি থামছে না। কারণ, ইতিমধ্যেই তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং রাজ্য সরকার তাঁর ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রত্যাহার করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত অনন্ত মহারাজের কয়েকটি মন্তব্যকে ঘিরে। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের একটি কর্মসূচির পর সংবাদমাধ্যমের সামনে নেতাজি এবং আজাদ হিন্দ ফৌজ সম্পর্কে একাধিক দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে নেতাজির স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এমনকি আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠনের ক্ষেত্রেও নেতাজির সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা নিয়েও একাধিক দাবি করেন অনন্ত মহারাজ। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
নেতাজির মতো জাতীয় বীরকে নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল, আইন সবার জন্য সমান। নেতাজি সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করলে প্রয়োজনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশকেও নির্দিষ্ট আইনের ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে যাঁরা নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করেছেন, তাঁদের পোস্ট মুছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থানের পরই অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়। এর আগে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর অনন্ত মহারাজ অবশ্য দাবি করেছিলেন, তিনি কারও বদনাম করেননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি যা বলেছেন, তা ইতিহাসের ভিত্তিতেই বলেছেন এবং কাউকে গালাগালি বা অপমান করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কোনও কথাও হয়নি বলে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। রাজ্য সরকার অনন্ত মহারাজকে দেওয়া ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।