ওঙ্কার ডেস্ক: বুধবার রাতে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত এক নার্সের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে শিফটে কর্মরত প্রায় ৩০ বছর বয়সি ওই নার্সকে হাসপাতালেরই একটি শৌচালয় থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পরই কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্ত এবং ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে তদন্তকারীরা।
ঘটনাস্থল থেকে তিনটি ফেন্টানিলের ভায়াল উদ্ধার হওয়ায় তদন্তে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রতিটি ভায়ালে ২ মিলিলিটার করে ওষুধ ছিল। মৃত নার্সের কনুইয়ের কাছাকাছি ইঞ্জেকশন দেওয়ার চিহ্নও পাওয়া গিয়েছে। সেই কারণেই তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে তাঁর শরীরে অতিরিক্ত মাত্রায় ফেন্টানিল প্রবেশ করে থাকতে পারে। তবে এটিকে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না পুলিশ। ফেন্টানিল অত্যন্ত শক্তিশালী ওষুধ। চিকিৎসাক্ষেত্রে মূলত তীব্র ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যানাস্থেশিয়ার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রয়েছে। ফলে হাসপাতালের মতো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এই ওষুধের তিনটি ভায়াল কীভাবে ওই নার্সের কাছে এল, তা তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। ভায়ালগুলি হাসপাতালের কোন বিভাগ থেকে বেরিয়েছিল, কার নামে বরাদ্দ হয়েছিল এবং ব্যবহারের হিসাব ঠিক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, রাত প্রায় ৮টা নাগাদ ওই নার্স ডিউটিতে যোগ দিয়েছিলেন। স্ত্রীরোগ বিভাগের দায়িত্ব পালন করার সময় রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি শৌচালয়ে যান। বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেলেও তিনি নার্সিং স্টেশনে ফিরে না আসায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। তাঁকে খোঁজ করতে গিয়ে শৌচালয়ের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখতে পান তাঁরা। বারবার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না মেলায় শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকা হয়। সেখানেই অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।